সিলেট থেকে: টানা ছয় ম্যাচে হার। সপ্তম ম্যাচে এসে ঢাকা ক্যাপিটালস এমনভাবে ঘুরে দাঁড়াল, অবিশ্বাস্যই বটে। লিটন দাস ও তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরিতে বিপিএলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে ঢাকা। রেকর্ড তাড়ায় নেমে রীতিমত বিধ্বস্ত হয়েছে দুর্বার রাজশাহী। রেকর্ড ১৪৯ রানে আসরে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে ঢাকা। বিপিএলে সর্বোচ্চ রান ব্যবধানের জয় এটি। ২০১৩ সালে রাজশাহী রয়্যালসকে ১১৯ রানে হারিয়েছিল চিটাগং কিংস। এতদিন সেটা ছিল সর্বোচ্চ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ঢাকাকে আগে ব্যাটে পাঠায় দুর্বার রাজশাহী। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ১ উইকেটে ২৫৪ রান করে ঢাকা। বিপিএলে সর্বোচ্চ রানের সংগ্রহ এটি। ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে রংপুর রাইডার্সের ৪ উইকেটে ২৩৯ রান ছিল শীর্ষে। রেকর্ড তাড়ায় নেমে রীতিমত বিধ্বস্ত হয়েছে রাজশাহী। ১৫.২ ওভারে ১০৫ রানে গুটিয়ে যায় তারা।
রানতাড়ায় নেমে ঢাকার বোলারদের সামনে দাঁড়াতে পারেনি রাজশাহী। সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন রায়ান বুর্ল। তার ৩২ বলের অপরাজিত ইনিংসে ছিল ৯ চারের মার। ইয়াসিরের ব্যাটে ১১ বলে ১৭ রান এবং সাব্বির হোসেন ও সানজামুল ইসলাম ১১ রান করে এনেছেন।
ঢাকার হয়ে দুটি করে উইকেট নেন আবু জায়েদ রাহি, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, মোসাদ্দেক হোসেন ও ফারমানউল্লাহ।
এর আগে ব্যাটে নেমে সিলেটের মাটিতে যেন ক্ষোভ উপশম করেছেন লিটন। চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে ৪৪ বলে সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরি ছোঁয়ার সময় ছিল ৮টি চার ও ৭টি ছক্কা। টি-টুয়েন্টিতে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি এটি। আগে পারভেজ হোসেন ইমন ৪২ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন, বঙ্গবন্ধু কাপ টি-টুয়েন্টিতে। বিপিএলে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরি এটি। আগের দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান ছিলেন তামিম ইকবাল (৫০ বলে)। বিপিএলে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ৪০ বলে, পাকিস্তানি ব্যাটার আহমেদ শেহজাদের।
খানিক পর তানজিদ তামিমও সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ৬২ বলে ৬ চার ও ৭ ছক্কায় সেঞ্চুরি আনেন। তামিম ইকবালের মতো একাধিক টি-টুয়েন্টি সেঞ্চুরি এখন তানজিদ তামিমের। টি-টুয়েন্টিতে দুটি সেঞ্চুরির মালিক এখন তিনি। চলতি আসরে পঞ্চম সেঞ্চুরি এটি। লিটন-তানজিদের আগে এবারের আসরে সেঞ্চুরি করেছেন উসমান খান, অ্যালেক্স হেলস ও থিসারা পেরেরা।
বিপিএলে এক ইনিংসে দ্বিতীয়বারের মতো দুই সেঞ্চুরির দেখা মিলল। ২০১৯ সালে রংপুর রাইডার্সের জার্সিতে চট্টগ্রামের বিপক্ষে একই ইনিংসে রাইলি রুশো ও অ্যালেক্স হেলস সেঞ্চুরি করেছিলেন। টি-টুয়েন্টি ইতিহাসে এ নিয়ে ৯বার এক ইনিংসে দুই সেঞ্চুরিয়ানের দেখা মিলল। তবে প্রথমবার কোনো দুই বাংলাদেশি তা করে দেখালেন।
ইনিংসের তিন বল বাকি থাকতে তানজিদ ফিরে যান ১০৮ রান করে। ৬৪ বলের ইনিংসে ছিল ৬ চার ও ৮ ছক্কার মার। তার আগে অনন্য রেকর্ড গড়েন লিটন-তানজিদ। তাদের ১১৮ বলে ২৪১ রানের জুটি বিপিএল তো বটেই, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ইতিহাসেও সর্বোচ্চ রানের জুটি।
বিপিএলে আগের সর্বোচ্চ জুটি ছিল ২০১ রানের। ২০১৭ আসরে মিরপুরে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে রংপুরের জার্সিতে দ্বিতীয় উইকেটে ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম ও ক্রিস গেইল জুটিটি গড়েছিলেন। ৮ বছর পর সেই রেকর্ড ভাঙলেন লিটন-তানজিদ।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে আগে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি ছিল ২২৯ রানের। ২০১৬ আইপিএলে গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেটে এই সংগ্রহ গড়েছিলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরাট কোহলি ও এবি ডি ভিলিয়ার্স। সেটিও ভেঙেছে।
বিপিএলে উদ্বোধনী জুটিতে আগের রেকর্ড ছিল ১৯৭ রানের। ২০১৩ আসরে লু ভিনসেন্ট ও শাহরিয়ার নাফিস খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলসের হয়ে করেছিলেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে উদ্বোধনীতে আগে সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েছিলেন লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের জার্সিতে কুইন্টন ডি কক ও লোকেশ রাহুল। ২০২২ সালের আইপিএলে কলকাতার বিপক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে ২১০ রান করেছিলেন। যেকোনো টি-টুয়েন্টিতে এটা এখন দ্বিতীয় সেরা জুটি। সর্বোচ্চ জাপানের দুই ওপেনারের অবিচ্ছিন্ন ২৫৮ রান।
পরে সাব্বির রহমানকে নিয়ে ২৫৪ রানে পৌঁছান লিটন। ১০ চার ও ৯ ছক্কায় ৫৫ বলে ১২৫ রানে অপরাজিত থাকেন। সাব্বির ২ বলে ৭ রান করেন।
রাজশাহীর হয়ে একমাত্র উইকেটটি নিয়েছেন শফিউল ইসলাম।







