চট্টগ্রাম থেকে: ২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে না পারার হতাশা কাটিয়ে ছোট ফরম্যাটে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ দিয়ে শুরু হবে টাইগারদের নবযাত্রা। তারুণ্য নির্ভর দল গড়েছে বিসিবি। সিরিজে নেই মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানারা। অধিনায়ক লিটন দাস মনে করছেন, এই দলও ভারসাম্যপূর্ণ। পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে নিচের দিকেও রান চাচ্ছেন অধিনায়ক।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ২৭ এপ্রিল গড়াবে সিরিজের প্রথম টি-টুয়েন্টি। ২৯ এপ্রিল একই ভেন্যুতে পরের ম্যাচ। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ টি-টুয়েন্টি হবে। সিরিজের ধারাভাষ্য শোনা যাবে রেডিও ভূমিতে। আগেরদিন চট্টগ্রামে অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসেন লিটন। তার মতে, লোয়ার মিডল অর্ডার এবং টেলএন্ডারে ভালো করলে আরও আগ্রাসী ক্রিকেট খেলা সম্ভব।
দলের ব্যাটিং গভীরতা নিয়ে লিটন বললেন, ‘এই দলে স্বীকৃত ছয় ব্যাটার সবসময় খেলে। সাথে রিশাদ এবং শেখ মেহেদী ব্যাটিং পারে। পেস বোলারদের ভেতর সাকিব আছে, সাইফউদ্দিন আছে। সাকলাইন নতুন যুক্ত হয়েছে। সবমিলিয়ে খুবই ভারসাম্যপূর্ণ দল।’
উন্নতির জায়গাও দেখছেন লিটন, লেজের দিক থেকেও রান চান অধিনায়ক, ‘টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে হয়। দুই-একটা উইকেট শুরুতে পড়বেই। মূল চিন্তা হল শেখ মেহেদী, নাসুম বা রিশাদ- যারা স্পিন করে, তাদের থেকে যদি ব্যাটিংটা পাই এবং অলরাউন্ডাররা ব্যাটিং দিতে পারে, একটা ভালো ব্যাটিং অর্ডার তৈরি হয়। বড় দলগুলোতে ৯ পর্যন্ত ব্যাটিং গভীরতা থাকে। যদি সেটা তৈরি করতে পারি, উপরের ব্যাটাররা আরও সহজাত খেলতে পারবে।’
ব্যাটিং গভীরতার বিষয়টি ধীরে ধীরে সমাধানের পথে এগোচ্ছে, মনে করছেন লিটন। বলেছেন, ‘টি-টুয়েন্টিতে যে পাঁচ বোলার আমরা ধরছি, তার মধ্যে শরীফুল আর রিপন মণ্ডল বাদে বাকিরা মোটামুটি ব্যাটিং পারে। তারা যদি পাঁচ-ছয় রান করে দিতে পারে, তাহলেই হবে। আমরা যে দলটা তৈরির চেষ্টা করছি, যদি নিজেদের মতো পারফর্ম করতে পারে, এই সমস্যা থাকবে না।’
কিউইদের বিপক্ষে প্রথম দুম্যাচের স্কোয়াডে নেই মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানা। নতুন যুক্ত হয়েছেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন ও রিপন মণ্ডল। ফিজের না থাকা বড় শূন্যতা মানলেও লিটন জানালেন টানা খেলার চাপ ব্যবস্থাপনার জন্য তাদের বিশ্রাম প্রয়োজন।
‘বোলারদের ক্ষেত্রে জিনিসটা খুবই সহজ, পরিবর্তন করে খেলানো। যে দুজন নেই, তারা বড় সম্পদ। চাই না তারা টানা খেলে চোটে পড়ে শেষ হয়ে যাক। সামনে ওয়ানডে ফরম্যাটে অনেক খেলা, টেস্টও আছে। এদিক চিন্তা করে কিছু কিছু পরিবর্তন শুরু করেছি। বিশ্বকাপ অনেক দেরি, পর্যাপ্ত সময় রয়েছে উন্নতি করার। নতুনদের ম্যাচ খেলানোর একটা ভালো সুযোগ এমুহূর্তে।
অধিনায়ক বললেন, ‘মোস্তাফিজ তো মোস্তাফিজই। তার শূন্যতা পূরণ করা কঠিন। কিন্তু কোন কারণে সে চোটে পড়লে তো অন্যকাউকে খেলতেই হবে। খেলোয়াড়রা যত খেলতে পারবে, তত উন্নতি করবে এবং মোস্তাফিজের কাছাকাছি যেতে পারবে।’








