জাতীয় সংসদের সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করে সংসদে বিল পাস হয়েছে।
এটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতি, জনআস্থা ও নীতি-প্রশাসনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘দ্য মেম্বার্স অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাওয়েন্সেস) (সংশোধন) অ্যাক্ট-২০২৬’ সংসদের অধিবেশনে পাসের জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে সেটি কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিতে পাস হয়।
রোববার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য উপস্থাপন করেন।
এসময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। সংসদের অধিবেশনে বহুল আলোচিত এ বিলটি পাসের সময় অধিবেশনে উপস্থিত অধিকাংশ সদস্য টেবিল চাপড়ে এই বিল পাসের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।
আগে এমপিরা নির্দিষ্ট শর্তে শুল্ক, ভ্যাট ও কর ছাড়াই গাড়ি আমদানি করতে পারতেন। ১৯৮৮ সালে এই সুবিধা চালু হয়। বিলটি পাস হওয়ার ফলে এখন থেকে সংসদ সদস্যরা (এমপি) আর শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানির সুযোগ পাবেন না। সাধারণ নাগরিকদের মতো সংসদ সদস্যদেরও গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে নির্ধারিত শুল্ক ও কর দিতে হবে।
এতদিন সংসদ সদস্যরা কোনো প্রকার শুল্ক বা ট্যাক্স ছাড়াই বিদেশ থেকে দামি গাড়ি আমদানির আইনি সুবিধা ভোগ করতেন।
এ বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়, জনগণের সেবা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ সদস্যদের নিজের নামে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি একদিকে যেমন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, অন্যদিকে তেমনি এ ধরনের শুল্কমুক্ত সুবিধা কর প্রদানের ক্ষেত্রে দেশের মালিক জনগণের সঙ্গে দৃশ্যমান বৈষম্য তৈরি করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ নেতার দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে জাতীয় সংসদের সদস্যদের জন্য বিদ্যমান শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের সঙ্গে সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে ওই সুবিধা বাতিল করার জন্য এই বিলটি আনা হলো।
দীর্ঘদিন ধরেই সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করে আসছিলেন, যা নিয়ে জনমনে সমালোচনা ছিল। নতুন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের প্রথার অবসান ঘটল। এর আগে ২৩ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদের সভায় সংসদ সদস্যদের এই সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। এরও আগে সরকার ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এমপিদের জন্য এমন সুবিধা জনগণের চোখে বৈষম্যমূলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
তারা বলছেন, জনগণের মধ্যে ধারণা তৈরি হতে পারে যে,রাজনীতিবিদরা নিজেদের সুবিধা কমাচ্ছেন।
ফলে সরকার ও সংসদের প্রতি আস্থা বাড়তে পারে। এই পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে একটি শক্তিশালী বার্তা দেয়:“সুবিধা নয়, সেবা”। ভবিষ্যতে দলগুলো নিজেদের জনমুখী হিসেবে তুলে ধরতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত আরও নিতে পারে।








