কিংবদন্তী চলচ্চিত্র নির্মাতা জ্যঁ লুক গদার মারা যাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ভাবে তার মৃত্যুর কারণ জানানো না হলেও পরে তার আইনি পরামর্শদাতা প্যাটিক জঁনেরেত জানান, ‘নিজের মৃত্যুর সিদ্ধান্ত গদার নিজেই নিয়েছেন।’ অর্থাৎ, স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নিয়েছেন ফরাসি এই নির্মাতা।
একাধিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন গদার। বেঁচে থাকার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলায় স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ বেঁছে নিতে চেয়েছেন নির্মাতা। সুইজারল্যান্ডে বেশ কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্র বিবেচনা করে ‘অ্যাসিস্টেড সুইসাইড’ বা চিকিৎসকদের সহায়তায় জীবন নাশের সিদ্ধান্ত আইনত বৈধ। আর তাই জীবনের ইতি টানতে সুইজারল্যান্ড গিয়েছিলেন ‘ব্রেথলেস’ এর এই নির্মাতা।
দুরারোগ্য অসুখে আক্রান্ত কোনও মানুষ যখন অকথ্য যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তখন তার মনে হয় একমাত্র মৃত্যুই হয়তো তার সব কষ্ট লাঘব করতে পারে। সে তখন চায় মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করতে। চায় স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকার।
চিকিৎসকদের সহায়তায় যন্ত্রণাহীন সেই জীবন নাশের পদ্ধতির নাম ‘ইউথেনেশিয়া’, যার অর্থ ‘সহজ মৃত্যু’। পৃথিবীর কয়েকটি দেশে এই অধিকারকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। সুইজারল্যান্ড ছাড়াও নেদারল্যান্ড, কানাডা, বেলজিয়াম, কলোম্বিয়া, জার্মানি, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, অরেগন, কলারডো, ভার্মন্ট, মন্টানা, হাওয়াই, ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউ জার্সিতে স্বেচ্ছামৃত্যুকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
শুধু জ্যঁ লুক গদার নয়, তিনি ছাড়াও আরও বিভিন্ন অঙ্গনের বিখ্যাত মানুষ স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছিলেন। মৃত্যু সাল ও পেশা সহ তেমন কয়জনের নাম থাকলো এখানে:
থমাস বের্নহার্ড (১৯৮৯): ঔপন্যাসিক, কবি
আর্থার ব্ল্যাক (২০১৮): ব্রডকাস্টার ও লেখক
এডওয়ার্ড ব্রঞ্জার্সমা (১৯৯৮): রাজনীতিবিদ
মাইকেল কসে (২০১০): থিয়োরিস্ট, অনুবাদক, লেখক
হুগো ক্লস (২০০৮): লেখক
ফু ডা-রেন (২০১৮): টেলিভিশন প্রেজেন্টার
ক্রিশ্চিয়ান দ্য দুভ (২০১৩): সাইটোলজিস্ট ও বায়োকেমিস্ট
এডওয়ার্ড ডনেস (২০০৯): কনডাক্টর
মার্ক ফ্লাইশচম্যান (২০২২): ব্যবসায়ী
হারবার্ট ফাক্স (২০০৭): অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ
ডেভিড গুডঅল (২০১৮): বোটানিস্ট ও ইকোলজিস্ট
পাওলেট গুইঞ্চার্ড-কানস্টলার (২০২১): রাজনীতিবিদ
জন হিকলেনটন (২০১০): কমিকস আর্টিস্ট
পাইটার হিন্টজেনস (২০১৬): সফটওয়্যার ডেভেলপার
উইলেম জুয়েট (২০২২): রাজনীতিবিদ
ফ্রাইডহেম কনিয়েটজকা (২০১২): ফুটবল স্ট্রাইকার ও ম্যানেজার
মারগারেট লিয়নস (২০১৯): রেডিও কর্মকর্তা
উইলফ্রাইড মারটেনস (২০১৩): রাজনীতিবিদ
ব্রিটানি মেনার্ড (২০১৪): শিক্ষক
মর্ড রানসেন (২০২১): নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার
এলিজাবেথ রিভার্স-বাল্কেলি: (২০০৬) স্টকব্রোকার
আদি তালমোর (২০১১): সাংবাদিক ও সংবাদ পাঠক
মারিকে ভেরবুর্ট (২০১৯): প্যারালিম্পিক অ্যাথলেট
পামেলা ওয়েস্টন (২০০৯): শিক্ষক ও লেখক








