পরিবার ও দুই ছোট সন্তানের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর জন্য হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্যারোলাইন লেভিট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষ দিকে পদটি ছাড়বেন ২৮ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা।
বিবিসি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেভিটকে তার ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীদের’ একজন হিসেবে উল্লেখ করে জানান, প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও লেভিট তার অন্যতম প্রধান পরামর্শক হিসেবে কাজ করবেন। পাশাপাশি রিপাবলিকান পার্টির রাজনীতিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
মাত্র ২৮ বছর বয়সে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই পদে দায়িত্ব পালনকারী সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হন লেভিট। গত বছর তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চলতি বছরের মে মাসে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন লেভিট। স্বামী নিকোলাস রিসিওর সঙ্গে এটি তার দ্বিতীয় সন্তান। তাদের দুই বছর বয়সী একটি ছেলেও রয়েছে। সন্তান জন্মের পর কিছুদিন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকার পর গত মাসে আবার হোয়াইট হাউসে কাজে ফেরেন তিনি।
কাজে ফেরার পরই দায়িত্বটির চাপ নতুন করে উপলব্ধি করেন লেভিট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করা তার জীবনের অন্যতম সম্মানজনক ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। তবে একই সময়ে দুই সন্তানের মা হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং বিশ্বের অন্যতম কঠিন সরকারি পদ সামলানো তার জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।
লেভিট বলেন, সন্তান জন্মের পর কাজে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন, প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনে যে পরিমাণ সময়, শক্তি ও মনোযোগ প্রয়োজন, তা দেওয়ার পর সন্তানদের প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাই শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নিজের এই সিদ্ধান্তকে কঠিন হলেও প্রয়োজনীয়।
হোয়াইট হাউসে প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল তার। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সহকারী প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন লেভিট। পরে নিউইয়র্কের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য এলিস স্টেফানিকের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক হিসেবে কাজ করেন।
এদিকে লেভিটের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় হোয়াইট হাউসের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম।








