যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির হত্যাকাণ্ডের মামলায় আদালতে হাজির হয়ে তাদের বন্ধু ও সহপাঠীরা আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন। তারা বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা একটি পরিবারের মতোই বসবাস করেন।
হিশাম আবুঘরবেহর জামিন শুনানির দিন আদালতে উপস্থিত লিমন-বৃষ্টির বন্ধু আবীর আল হাসিব সৌরভ বলেন, আমরা সবাই এখানে এক পরিবারের মতো। একসঙ্গে খাই, ঘুরি এই বন্ধনই আমাদের শক্তি।
মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৬ এপ্রিল টাম্পা বে এলাকায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এর এই দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হন। পরদিন বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
পরে স্থানীয় পুলিশ লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তে হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়। বৃষ্টির মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি।
২৪ বছর বয়সী হিশাম, যিনি লিমনের সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে একই অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন, তার বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির দুটি হত্যাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) হিলসবরো কাউন্টি আদালত তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সাক্ষী বা নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে। বিচারক জে লোগান মারফি সংক্ষিপ্ত শুনানিতে এ আদেশ দেন।
শুনানিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই নিহতদের বন্ধু ও সহপাঠী। তাদের একজন সালমান সাদিক শুভ বলেন, আমরা জানতে চাই, আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে।
আরেক বন্ধু রিফাতুল ইসলাম বলেন, হাজার মাইল দূরে এসে আমরা একে অপরের ওপর নির্ভর করি। যে জায়গাকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করি, সেখানেই এমন ঘটনা আমাদের হতবাক করেছে।
স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ আদালতে বন্ধুদের উপস্থিতি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এত সংখ্যক বন্ধুর উপস্থিতি প্রত্যাশা করেননি, তবে এটি ন্যায়বিচারের দাবিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গ্র্যান্ড জুরির মাধ্যমে মামলার পরবর্তী ধাপ শুরু হতে পারে। দোষ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
এদিকে আবীর আল হাসিব সৌরভ বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান লক্ষ্য অপরাধীকে ন্যায়বিচারের আওতায় আনা।








