যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ নিয়ে দায়ের হওয়া মামলা শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে দেশটির আদালত। আদালতের এই সিদ্ধান্ত দেশটির নাগরিকত্ব নীতি ও অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
আজ (৬ ডিসেম্বর) শনিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এখনও শুনানির তারিখ ঘোষণা করেনি। রায় দিতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন মামলার পক্ষ সমর্থন করছে এবং সুপ্রিম কোর্টে এই ইস্যুর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আশা করছে।
গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বা অস্থায়ী ভিসাধারী অভিভাবকের সন্তানদের জন্য জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের ঘোষণা দেন। কিন্তু একাধিক ফেডারেল আদালত আদেশটি আটকে দিলে তা কার্যকর হতে পারেনি।
পরে ট্রাম্প প্রশাসন ইনজাংশন চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেলে আদালত জুন মাসে রায় দেয় যে নিম্ন আদালতগুলোর আদেশ তাদের এখতিয়ার ছাড়িয়ে গেছে। তবে সেই রায়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বৈধতা সম্পর্কে কোনো অবস্থান নেয়নি আদালত। ১৮৬৮ সালে গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী পাস হয়।
এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী যে কেউ দেশটির নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবে, রাজনৈতিক কূটনীতিক বা বিদেশি সামরিক বাহিনীর সন্তান ছাড়া। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সংশোধনীতে থাকা ‘সাবজেক্ট টু দ্য জুরিসডিসিশন থেরেওফ’ কথাটি ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাদের মতে, অবৈধ বা অস্থায়ী অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই সংশোধনী প্রণয়ন হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সলিসিটর জেনারেল ডি জন সাওয়ার যুক্তি দেখিয়েছেন, সংশোধনীর লক্ষ্য ছিল মুক্ত দাস ও তাদের সন্তানদের নাগরিকত্ব দেওয়া, বিদেশি নাগরিকদের অস্থায়ীভাবে জন্ম নেওয়া শিশুদের নয়। অন্যদিকে এসিএলইউ বলছে, কোনো প্রেসিডেন্টই ১৪তম সংশোধনীর মূল নীতি পরিবর্তন করতে পারেন না।






