নামিবিয়া ও স্কটল্যান্ডের মতো দল বিশ্বকাপে রূপকথার জন্ম দিচ্ছে প্রথম রাউন্ডে বড় প্রতিপক্ষকে হারের স্বাদ দিয়ে। প্রস্তুতি ম্যাচেই সেখানে আফগানিস্তানের সঙ্গে বিবর্ণ ব্যাটিং করল বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসানরা ছোট ফরম্যাটে ধারাবাহিক খারাপ ফল করে বিশ্বমঞ্চে গেছেন বাজে কিছু এড়ানোর প্রতিজ্ঞা নিয়ে, আফগানদের কাছে উড়ে গিয়ে ব্যর্থতার শঙ্কা এখন যেন রীতিমতো ভয়ে পরিণত হচ্ছে!
সোমবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৬২ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে শ্রীধরন শ্রীরামের শিষ্যরা। ব্রিসবেনের অ্যালান বর্ডার ফিল্ডে টসে জিতে ব্যাটিং নেয়া আফগানরা ৭ উইকেটে ১৬০ রান তোলে। জবাবে লাল-সবুজের দল পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং করলেও ৯ উইকেটে ৯৮ রানের বেশি যেতে পারেনি।
শুরুতে বাংলাদেশের বোলারদের উপর চড়াও হতে পারেনি আফগান ব্যাটাররা। ১৯ রানের মাথায় তারা প্রথম উইকেট হারায়। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে তাসকিনের বলে মোসাদ্দেকের হাতে ধরা পড়েন ১৫ রান করা হযরতউল্লাহ জাজাই।
দ্বিতীয় উইকেটে ৪৩ রানের জুটি গড়েন রাহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। গুরবাজের আউটে ভাঙে জুটি। সাকিবের বলে সুইপ করতে গিয়ে আফিফের তালুবন্দি হন তিনি।
দারউইস রাসুলিকে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট শিকার করেন তাসকিন। ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৬ রান করা জাদরানের ক্যাচ নেন ইয়াসির আলী রাব্বি।
পরে নাজিবুল্লাহ জাদরান ও উসমান ঘানি দ্রুত ড্রেসিংরুমে ফেরেন। আফগানিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ১৮.১ ওভারে ৬ উইকেটে ১২৭ রান। সেখান থেকে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন মোহাম্মাদ নবি। সাকিবের চতুর্থ ওভারের শেষ ৩ বলে নবি দুই ছক্কা ও এক চার হাঁকান।
তাসকিনের শেষ ওভারেও ২ ছক্কা মারেন নবি। ১৭ বলে এক চার ও ৫ ছক্কায় ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন আফগান অধিনায়ক।
টাইগারদের পক্ষে ৩০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তাসকিন। হাসান মাহমুদ ২৪ রানে ২ উইকেট পান। বল হাতে ব্যয়বহুল সাকিব ২ উইকেট পেলেও রান দেন ৪৬। উইকেটশূন্য মোস্তাফিজুর রহমান ৪ ওভারে খরচ করেন ৩১ রান।
১৬১ রানের লক্ষ্যে নামা বাংলাদেশ ইনিংসের শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। বিনা উইকেটে ১৯ থেকে স্কোর হয়ে যায় ৫ উইকেটে ২৮ রান!
৯ বলে ২ চারে ১২ রান করা নাজমুল হোসেন শান্ত প্রথমে সাজঘরে ফেরেন। ফজলহক ফারুকির বলে বোল্ড হন। পরে মুজিব উর রহমানের বলে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন এক রান করা সৌম্য সরকার।
পঞ্চম ওভারের শেষ দুই বলে সাকিব ও আফিফকে ফেরান ফারুকি। সাকিব এক রান করে হন বোল্ড। আফিফ রানের খাতা না খুলে লেগ বিফোরে কাটা পড়েন।
ফরিদ আহমেদের বলে পুল করতে গিয়ে জাদরানের হাতে ধরা পড়েন রানের খাতা না খোলা ইয়াসির। স্রোতের বিপরীতে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন নুরুল হাসান সোহান। ৮ বলে এক চার ও এক ছক্কায় ১৩ রান করে ফরিদের বলে ক্যাচ দেন।
৪৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে নামা মেহেদী হাসান মিরাজ ৩১ বলে ১৬ রান করে ফারুকির বলে বোল্ড হন। রান আউট হন ৬ রান করা তাসকিন। মোসাদ্দেক ৩৩ বলে ২৯ রান করে নবির বলে সুইপ করতে গিয়ে কাইস আহমেদের হাতে ধরা পড়েন। মোস্তাফিজুর রহমান ২ চারে ১০ রানে অপরাজিত থাকেন।
আফগানদের পক্ষে ফজলহক ফারুকি ৯ রান দিয়ে পান ৩ উইকেট। ৪২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন ফরিদ আহমেদ। একটি করে উইকেট নেন নবি, নাভিন ও মুজিব।








