চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি
    https://www.youtube.com/live/kP-IVGRkppQ?si=_Tx54t8FAaVsH3IO
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

ভাষা সংগ্রামী জওশন আরা রহমান: চল্লিশের দশকে সাংস্কৃতির চর্চায় মুক্তমনা এক নারীর প্রস্থান

জান্নাতুল বাকেয়া কেকাজান্নাতুল বাকেয়া কেকা
৪:০৫ অপরাহ্ণ ১২, জুলাই ২০২৪
মতামত
A A

একজন ভাষা সংগ্রামী জওশন আরা রহমান। চল্লিশের দশকে সাংস্কৃতির চর্চায় মুক্তমনা এক নারী সংগঠক। নারী উন্নয়ন নীতির কার্যকর পদক্ষেপ প্রণয়নের ক্ষেত্রে অনন্য এক নীতিনির্ধারক ছিলেন তিনি। নব্বইয়ের দশকে এদেশে অভাবনীয় এক কর্ম, নারীদের হাতের অর্থ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন। নারীদের ক্ষুদ্র ঋণের আওতায় এনে নারী উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিক সূচনার সম্পৃক্ত করায় উল্লেখ্যযোগ্য ব্যক্তিত্ব জওশন আরা রহমান।

সেই স্কুল গণ্ডির শিক্ষার্থী অবস্থায় তিনি জড়িয়ে পড়েন ভাষা আন্দোলনে। বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার চুনতী গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুনসেফ্ পরিবারের সংস্কৃতিক আবহে তার জন্ম, বেড়ে উঠা। তিনি ছিলেন বুদ্ধির চর্চায় মুক্তমনা। ওই সময়ে হাতে গোনা কয়েক নারীর একজন হয়ে উঠেন তৎকালীন ছাত্র সংসদের সদস্য ও নারী সংগঠক।

সেই চল্লিশের দশকে যখন নারীদের ঘরের বাইরে চলাচল অবাধ ছিল না, সংকুচিত ছিল অনেক স্বাধীনতা, সেই বিরুপ সময়ে তিনি ছিলেন চট্টগ্রামে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ। চট্টগ্রাম কলেজে ব্যাচেলর অব আর্টস পরার সময় সেই ১৯৫৭ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার ভইয়েরাও ছিলেন উদার, মুক্তমনা রাজনীতি সচেতন। ভাইদের অনুপ্রেরণায় ভাষা আন্দোলনে সহজেই জড়িত পড়েন জওশন আরা।

চট্টগ্রামের আরেক কৃতি সন্তান ১৯৫২’র ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রক্তাক্ত একুশের স্মরণে প্রথম কবিতার রচয়িতা ভাষা সংগ্রামী ও সংগঠন কবি সাহিত্যিক মাহবুব উল আলম চৌধুরীর। তার সহধর্মিনী হিসেবে জওশন আরা রহমান ও তার স্বামী ছিলেন চট্টগ্রামের সাংস্কৃতির চর্চায় একবৃত্তে দুটি ফুল হয়ে। কবি সাহিত্যিক মাহবুব উল আলম চৌধুরীর ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ একুশের প্রথম কবিতা। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে বহুল তাৎপর্যবহ ঐতিহাসিক প্রতিবাদী এক কবিতা।

ঢাকায় ছাত্র জনতার ওপর রক্তক্ষয়ী পুলিশী হামলার প্রতিবাদে ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের লালদিঘির ময়দানে ওই কবিতাখানি আবৃক্তি করা হলে চট্টগ্রামের ছাত্র, শিক্ষার্থী, জনতাকে আবেগকে দারুণভাবে আন্দোলিত করে। ঐতিহাসিক সেই কবিতা লেখার দায়ে মাহবুব উল আলম চৌধুরীর প্রতি হুলিয়া ও গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে পাকিস্তানী শাসক। ওই বিরুপ অবস্থায় উভয় পরিবারের সম্মতিতে জনশন আরা ও মাহবুব উল আলম চৌধুরীর বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন।

মূলত, ১৯৫২’র একুশে ফেব্রুয়ারির ঢাকার ঐতিহাসিক আমতলায় যে আন্দোলনে জমায়েত হয়েছিল লাখো ছাত্র-জনতা সেই বাংলা ভাষার মর্যদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে একাত্ব হয়েছিল চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী-ছাত্র-জনতাও। চট্টগ্রাম মহানগরীর ‘সুকুর আলী মুসনেফ লেনের’ বাসায় রাতের বেলা তার সেজ ভাই শাহাবুদ্দিন এক গাদা কাগজ এনে দিতেন। ঐসব বর্ণিল কাগজের সাথে থাকত তুলি আর রং। রাতে বাসার সবাই ঘুমিয়ে পড়লে জওশন আরা ও তার ছোট বোন জাহানারা মিলে রাতভর পোস্টার লিখতেন। বাবা সরকারি চাকুরে তাই তার অজান্তে রাতের আধারে মোমবাতি জ্বালিয়ে পোস্টার লেখার কাজ করেছেন তারা ভাইবোনেরা।

Reneta

বায়ান্নোর ঐতিহাসিক একুশে ফেব্রুয়ারির সকালে ঢাকার সেই উন্মাদনা চট্টগ্রামে এসে লাগলে জওশন আরা রহমানও সাহসীকতার সাথে অংশ নেন। বাবা মাহবুবুর রহমান সরকারি চাকরির সুবাদে নিজে চুপ থাকলেও সন্তানদের ভাষা সংগ্রামের মহান কাজে বাধা দেননি বরং নিরবে সমর্থন করেছেন। ওই দিন সকালে “চট্টগ্রাম কলেজ থেকে তাদের ‘ডাক্তার খাস্তগির গার্লস হাই স্কুলে এসেছিলেন চট্টগ্রাম কলেজের তৎকালীণ শিক্ষার্থী প্রতীভা মৎসুদ্দী (ভাষা সংগ্রামী ও মুক্তিযোদ্ধা) এবং আজকের ডেমোক্রেসি ওয়াচের তালেয়া রেহমান। তাদের স্কুলের অপেক্ষাকৃত বড় শিক্ষার্থীদের তারা আন্দোলনে অংশ নিতে রাস্তায় বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে জওশন আরা ও তারা সহপাঠীরা বেরিয়ে আসেন রাস্তায়। সেদিন স্কুল গেইটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে চেপে তারা পুরো চট্টগ্রাম শহর প্রদক্ষিণ করেন। স্লোগানে- স্লোগানে মুখর নারী শিক্ষার্থীদের দলটি ঐ সময়ের মাতৃভাষা বাংলার দাবির সাথে একাত্ব হন।

জওশন আরা রহমান ছিলেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিচিত মুখ। খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন ভাষা আন্দোলন জোরদারে গঠিত চট্টগ্রাম জেলার ভাষা আন্দোলন কমিটির আহবায়ক লেখক-সাহিত্যিক ও কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরীকে। জওশন আরার মেজ ভাই লুৎফর রহমানের বন্ধু সুধীর চৌধুরীর মাধ্যমে তার বোন (জওশন আরার) সাথে কবি-সাহিত্যিক মাহবুব উল আলম চৌধুরীর বিয়ের সম্বন্ধ আসে। তখন পরিবারের পক্ষে বিয়েতে তার মতামত জানতে চাওয়া হয়। জওশন আরা ব্যাচেলর অব আর্টস-‘বিএ’ পরীক্ষা সম্পন্ন করেই বিয়ে করবেন বলে মত দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ভাইসহ পরিবারের আর সবার মতামত ছিল ছেলেটি (মাহবুব উল আলম চৌধুরী) বড় পরিবারের এবং গুণী ও সংস্কৃতিমনা। সুতারং জওশন আরা তার মনোভাব পাল্টে বিয়েতে মত দিয়েছিলেন।

ঐ সময় ঢাকা ও কলকাতার বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় মাহবুবুল আলম চৌধুরীর কবিতা ছাপা হতো। এমনই একটি কবিতা ছিল ‘লাল টিপ পড়া মেয়েটি’ মুলত ঐ কবিতা পড়ে মাহবুব উল আলম চৌধুরীর প্রতি জওশন আরার ভালো লাগা। মাহবুব উল আলম চৌধুরীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তখন সদ্য তরুণী জওশন আরা ততটা ওয়াকিবলহাল ছিলেন না। পারিবারিব ভাবে তাদের বিয়ের দিনক্ষণ ঠিকঠাক। ততদিনে ভাষার দাবিতে উত্তাল সারাদেশ। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য গঠিত হয়েছিল সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। ওই কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব নিয়েছিলেন জওশন আরার হবু বর মাহবুব উল আলম চৌধুরী। তার নেতৃত্বে জোর প্রস্তুতি চলছে ভাষা আন্দোলন সফল করার নানান কার্যক্রম।

দিনরাতের প্রচণ্ড পরিশ্রমের ধকলে অসুস্থ হয়ে আক্রান্ত হলেন জলবসন্তে। প্রচণ্ড অসুস্থতার মধ্যে খবর পেলেন ঢাকায় ছাত্র জনতার ওপর গুলীবর্ষণে রফিক, সালাম, বরকতের আত্মত্যাগের খবর। রাগ-ক্ষোভ আর একরাশ বেদনায় লিখেছিলেন ঐতিহাসিক সেই কবিতা-‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’। তবে এতটায় অসুস্থ ছিলেন যে নিজ হাতে কলম ধরার ক্ষমতা উনার ছিল না। কিন্তু আবেগে কবিকে রুখে কে? তার ক্ষোভ আর রোগযন্ত্রনা যেন সেদিনের ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে মিলেমিলে একাকার। কবি মুখে মুখেই রচনা করলেন তার সেই কালজয়ী একুশের প্রথম কবিতা। ঢাকায় ২১ শে ফেব্রুয়ারির উত্তাল আন্দোলনে ছাত্রজনতার ওপর গুলিবর্ষণে প্রাণহানীর ঘটনায় চট্টগ্রামে আয়োজন করা হয় প্রতিবাদ সভার। ২৩ ফেব্রুয়ারির ওই প্রতিবাদ সভায় জওশন আরার হবু বর অসুস্থতার কারণে তার নিজের লেখা কবিতাটি পড়তে পারলে না। সেদিন চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদঘিীর ময়দানরে ঐ প্রতিবাদ সমাবেশে একুশের প্রথম প্রতিবাদী কবিতা-

‘ওরা চল্লিশজন কিংবা আরও বেশি,
যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে-রমনার রৌদদগ্ধ কৃষ্ণচূড়ার গাছের তলায়,
ভাষার জন্য, মাতৃভাষার জন্য-বাংলার জন্য
আমরা সেখানে কাঁদতে আসিনি।’

প্রথম জনসম্মুখে আবৃত্তি করলনে চৌধুরী হারুনুর রশীদ। কবিতা শুনে ময়দানে জড়ো হওয়া লাখো জনতা ফেটে পড়ে বিক্ষোভে। মুর্হুমুহু স্লোগানে কেপে উঠে পাক মসনদ। শত সহস্র বুলটের চাইতওে এই কটি লাইন কত শক্তিশালী তার প্রমাণ মিলে। পাক সরকার কবিতাটি কিছুদিনের মধ্যে বাজয়োপ্ত করে। কবিতাটি নিষিদ্ধি করার পাশাপাশি কবি মাহবুবল আলম চৌধুরী, পাঠক চৌধুরী হারুনুর রশীদ, প্রকাশক কামাল উদ্দনি আহমদ এর বিরুদ্ধে জারি হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা। চৌধুরী হারুনুর রশীদ এবং  ম্যানেজার দবির আহমদ চৌধুরীকে দ্রুত গ্রেফতারও করা হয়।

ই অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ-শয্যাশায়ী কবিকে দেখতে গিয়েছিলেন হবু স্ত্রী জওশন আরার মা সাজিদা খানম, সেজ ভাইয়ের বন্ধু সুধীর চৌধুরী এবং জওশন আরাও তাদের সাথে ছিলেন। তখন এলায়েত বাজারের ‘সাগির মঞ্জিলের’ প্রাচীর ঘেরা বিরাট বাড়ির সামনের দিকের বাড়িতে থাকতেন কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী। এরপর পেছনে বিরাট উঠান পেরিয়ে তার হবু বরের মামার বাড়ি।

তখনকার সময়ে হবু বরের বাড়িতে মেয়েদের যাওয়ার কোন নিয়ম ছিল না। আর যাওয়াটা স্বাভাবিক বিষয়ও ছিল না। তারপরও কবির শারীরিক অবস্থা আর মাথার ওপর গ্রেফতারি পরোয়ানার বিবেচনায় জওশন আরার পরিবারের সদস্যরা মেয়েকে সঙ্গে নিয়েছিলেন।’ বিরাট প্রাচীর ঘেরা সেই বাড়ির দারোয়ান পরিচয় জিজ্ঞেসা করলে সুধীর চৌধুরী জওশন আরার মাকে নিজের মা এবং জওশন আরাকে বোন পরিচয়ে ঐ ‘সাগির মঞ্জিলে’ প্রবেশ করেন। সেদিন একেবারে রোগে শয্যাশায়ী কবির মাথায় জওশন আরার আম্মা হাত চালিয়ে স্নেহের পরশ বুলিয়ে দিয়েছিলেন। জওশন আরা রহমানের স্মৃতিতে গুরুত্বর অসুস্থ ও মাথায় হুলিয়া নিয়ে ভেঙ্গে পড়া রোগে ভোগা হবু বরের পাশে দাঁড়ানোর সেই ঘটনা ছিল স্মরণীয় এক ঘটনা।

আন্দোলনের জেরে বায়ান্নো পরবর্তী পাকিস্তানী শাসককুল ক্রমেই কঠোর হয়েছে। একুশের কবিতা লেখা ও লাল দিঘির ময়দানের প্রতিবাদ সভায় সেই কবিতা পাঠ পরবর্তী কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরীর প্রতি তৎকালীন সরকারের রোষ বেড়েছে। গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে পলাতক কবির জীবন জুড়ে নানান অনিশ্চয়তা। জওশন আরার অভিভাবকেরাও শঙ্কিত, পাত্র গুণী ঠিক আছে। কিন্তু হুলিয়া ও গ্রেফতারের মুখে জেল জীবনের অনিশ্চতায় মধ্যে মেয়ে জওশন আরাকে জড়ানো ঠিক হবে? তবে জওশন আরা অভিভাবকদের অনিশ্চয়তা আমলে না নিয়েই বিয়েতে রাজি হন। তার পরিবারও আর অমত করে নি। গ্রেফতারের পরোয়ানা মাথায় ১৯৫২ সালের ২১ এপ্রিল কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরীর সাথে জওশন আরার আকদ হয়। ওই বছর ১০ অক্টোবর সম্পন্ন হয় বিয়ে। তাদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে একটি কন্যা সন্তান নিয়ে কেটেছে তাদের আনন্দময় জীবন।

জওশন আরা রহমানের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানার চুনতী গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুনসেফ পরিবারে। ১৯৫২ সালে চট্টগ্রামের ডা. খাস্তগীর সরকারী বালিকা বিদ্যালয় থেকে বৃত্তিসহ প্রথম বিভাগে মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৫৫-৫৬ সালে চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্র সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি “চট্টগ্রাম সরকারী কলেজে পড়ার সুবাদে জওশন আরা প্রথম কলেজ ম্যাগাজিনের বাংলা নামকরণ করেছিলেন। তার হাত ধরেই চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ বার্ষিক ম্যাগাজিনের না করণ হয় ‘অনেষা’।

এর আগে বছর কলেজ ম্যাগাজিনটি চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ ম্যাগাজিন নামেই প্রকাশ হত। মূলত তখনকার প্রগতিশীল ছাত্র প্রতিনিধিরা ঐ ম্যাগাজিনটির প্রকাশানার দায়িত্বে থাকতেন। চট্টগ্রাম কলেজে ‘বিএ’ পরার সময় সেই ১৯৫৭ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন জওশন আরা। যদিও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষে ‘ইউনাইটেড স্টুডেন্টস প্রগ্রেসিভ পার্টি-ইউএসপিপি’ জাতীয় কমিটি হয়েছিল সেই ১৯৫৩-৫৪ সালে ঢাকায়। এর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন ‘ছায়ানট’ এর আজকের সভাপতি বিশিষ্ট রবীন্দ্র সঙ্গীতের পুরোধা ব্যক্তিত্ব স্নাজিদা খাতুন। চট্টগ্রাম শাখার ‘ইউএসপিপি’ ছাত্রী সংসদ নির্বাচনের আগে চট্টগ্রাম বড় আকারে একটি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছিল। হাজার খানেক মেয়েদের অংশগ্রহণে সেই কনফারেন্সে ঢাকা থেকে অংশ নিয়েছিলেন কবি সুফিয়া কামাল এবং পূর্ববাংলা সরকারের প্রথম স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাবিবুল্লাহ বাহারের বোন শামসুন নাহার মাহমুদ। ‘ইউনাইটেড স্টুডেন্টস প্রগ্রেসিভ পার্টি-ইউএসপিপি’ নামে পরিচিত সেই ‘ইউএসপিপি’র মুখপাত্র হিসেবে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকাও প্রথম দিকে সম্পাদনা করেছেন জওশন আরা। ট্যাবলয়েড সাইজের ঐ সাপ্তাহিকটির নাম ছিল-‘দু’পাতা’।

১৯৬০ সালে জওশন আরা সরকারের সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা হিসেবে শুরু করেন সরকারি চাকরী জীবন। সাড়ে আঠারো বছরের সেই চাকরিতে তিনি ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে সেই চাকরি থেকে অবসর নিয়ে তিনি ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব উম্যান ডেভলপমেন্ট বিভাগে জয়েন করেন। পরর্বতীতে তিনি ইউনিসেফ এর চিফ অব প্রোগ্রাম প্লানিং পদে কাজ করেন। আর একাজে মূল ফোকাস ছিল ‘উন্নয়নের মুল ধারায় নারীদের অংশগ্রহণ বা নারীদের নিয়ে আসা। ইউনিসেফ বাংলাদেশ থেকে জওশন আরার উদ্যোগেই সকল দাতাগোষ্টির প্রতিনিধিদের নিয়ে নারী উন্নয়নের জন্য একটা নেটওয়ার্ক তৈরী করা হয়েছিল। সেই নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। নারীদের উন্নয়নের স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় স্থান দিতে হবে এমন দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ঐ নেটওয়ার্কের উদ্যোগে তারা কিছু করতে পারেন কি না তা নিয়ে এগুতে থাকেন তারা।

ঐ ভাবনা থেকেই নেটওয়ার্ক চতুর্থ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় নারী উন্নয়ন বিষয়ে একটা ‘ম্যাক্রো অধ্যায়’ সম্পৃক্ত করার জন্য জওশন আরা রহমান একটি প্রস্তাব করেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় পরিশেষে জওশন আরা রহমান সফল হয়েছিলেন। পরিকল্পনা কমিশনের কেন্দ্রীয় অর্থনীতি বিভাগ এর সহযোগীতায় শেষ বারের মত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে করে খসড়া অধ্যায়কে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার জন্য গ্রহণযোগ্য করা হয়েছিল। এভাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত চতুর্থ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনানারী উন্নয়ন ‘ম্যাক্রো অধ্যায়’ সম্পৃক্ত করা হয়।

এই সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমায় জওশন আরা রহমান একাগ্রচিত্তে সরকারের সাথে কাজ করেছেন। দাতাগোষ্ঠির পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মত ১৯৮৭ সালে সরকারের চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৯০-৯৫) প্রস্তবনা নিয়ে তিনি প্রস্তাব দেন।

জওশন আরা রহমান রহমান মনে করতেন, সেই কাজের কিছুটা অগ্রসর হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত স্তরের নারীরা উন্নয়নের আওতায় এসেছে। তবে উচ্চ পর্যায়ে বা নীতি নির্ধারণীতে সেভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা উচ্চ আসনে নারীদের অবস্থান উল্লেখযোগ্য নয়। তার মতে, তিনিসহ আগের পূর্বসুরিরা নারীদের মূল ধারায় আনতে যে আন্দোলনের ধারা ও কাজের সূচনা করেছিলেন তা চলছে। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকলে তবেই নারীদের নীতিনির্ধারণীর চুড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। তিনি গৌরবের ভাষা আন্দোলন এবং তার নিজের অংশগ্রহণ, দীর্ঘ কর্মময় জীবন নিয়ে লিখেছেন ‘স্মৃতি কথা একটি অজানা মেয়ে’ নামের একটি আত্মজীবনী। সেই বইতে তিনি তার জীবন, কর্ম এবং জীবনের উল্লেখযোগ্য স্মৃতিগুলো গেঁথে রেখেছেনে পরম মমতায়। ২০২৪ সালের ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার এই ভাষা সংগ্রামী গুণীজন জওশন আরা রহমান প্রায় ৮৭ বছর বয়সে প্রয়াত হন। তার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Channel-i-Tv-Live-Motiom

Jui  Banner Campaign
ট্যাগ: জওশন আরা রহমানভাষা সংগ্রামী
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে ফের সক্রিয় ইডি

এপ্রিল ২৫, ২০২৬

ফ্রান্স ও রিয়ালের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চোটে এমবাপে

এপ্রিল ২৫, ২০২৬

৩ মাসের মধ্যেই সড়কে নামছে দেশীয় ইলেকট্রিক যানবাহন

এপ্রিল ২৫, ২০২৬

ফুটপাত দখলমুক্ত করতে মাঠে অস্থায়ী মার্কেটের পরিকল্পনা ডিএনসিসির

এপ্রিল ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র

এপ্রিল ২৫, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey January 2026 Bkash Stickey September 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT