দুদিন আগে কোপা ডেল রে’র সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সার বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ের পর দ্রুতই মুদ্রার উল্টো পিঠটাও দেখলেন কার্লো আনচেলত্তি। লিগে ভিয়ারিয়ালের কাছে ২-৩ গোলের পরাজয়ে শিরোপা দৌড় থেকে অনেকটা পিছিয়েও পড়েছে তার শিষ্যরা। হারের পর দলের সবাইকে দুষেছেন ৬৩ বর্ষী কোচ।
রিয়ালের ঘরের মাঠ বার্নাব্যুতে গত বছর মার্চে বার্সার কাছে হারের পর শনিবার রাতে প্রথমবারের মতো লিগ ম্যাচ হেরেছেন বেনজেমা- ভিনিসিয়াসরা। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে টানা চার ম্যাচে জয়হীন এখন লস ব্লাঙ্কোস বাহিনী।
ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘আমরা মান অনুযায়ী খেলতে পারিনি, তবে হারার যোগ্য ছিলাম না। ম্যাচে অনেক সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। ভারসাম্যহীন খেলার কারণে বল পেতেও ভুগতে হয়েছে। ভিয়ারিয়াল দারুণভাবে বল নিয়ন্ত্রণ করেছে। তাদের চেষ্টা ছিল আমাদের ভারসাম্যহীন করার এবং তারা সফল হয়েছে। কারো সমালোচনা করতে চাই না, কারণ মনে করছি প্রত্যেকেই আজ স্বাভাবিকের চেয়ে খারাপ খেলেছে।’
হেরে লিগ শিরোপা দৌড়ে প্রায় ছিটকে গেল রিয়াল মাদ্রিদ। টেবিলের শীর্ষ দল বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ পয়েন্টে। ২৭ ম্যাচে বার্সার পয়েন্ট ৭১, এক ম্যাচ বেশি খেলে রিয়ালের ৫৯ পয়েন্ট।
এমন বাস্তবতায় অবশ্য হাল ছাড়তে রাজি নন আনচেলত্তি, ‘আমরা হাল ছাড়ব না। এখনও ১০টি ম্যাচ বাকি। যতটা সম্ভব পয়েন্ট নিশ্চিত করতে নিজেদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করব।’
বার্সার বিপক্ষে একটি বড় ম্যাচের সপ্তাহ খানেক পরই চেলসির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল। দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের মাঝে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ লা লিগার ম্যাচে দলকে অনুপ্রাণিত করা কঠিন ছিল বলেও মনে করছেন রিয়াল কোচ।
‘দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের মাঝে একটি ম্যাচের জন্য আলাদাভাবে প্রস্তুতি নেয়া অনেক কঠিন। অনেককিছুই পরিবর্তন করেছি, কারণ বার্সেলোনা ম্যাচটি আমাদের থেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেককিছু নিয়েছে। যেখানে দলকে শতভাগ অনুপ্রাণিত করা কঠিন ছিল, কারণ বার্সা ম্যাচে আমরা সেরাটা দিয়ে খেলেছি।’
ভিয়ারিয়ালের কাছে হারলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ছন্দে থাকা রিয়ালকেই পাবে সমর্থকরা। আনচেলত্তি বলছেন, ‘এটাই স্বাভাবিক যে, পরাজয়ে অনেক হতাশ হয়েছি। তবে এই পরাজয়ের প্রভাব চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পড়বে বলে মনে হয় না। বুধবারের ম্যাচটি হবে সম্পূর্ণ আলাদা। এটি হবে সম্পূর্ণ একটি ভিন্ন গল্প।’








