গরুর পাইকারদের কাছ থেকে লুট করা টাকা দিয়ে ঈদ উল আজহায় কোরবানি দিতো ডাকাত দলের সদস্যরা। এ ডাকাত দলের কাজই হচ্ছে বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে মানুষজনের কাছ থেকে ডাকাতি করে মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেওয়া। এছাড়া বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান নিয়ে প্রবাসীদের বহনকারী গাড়ির গতিরোধ করে তাদের সর্বস্ব লুটে নেওয়া।
রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ রোডে ডাকাতি করা এরকম একটি চক্রের ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উত্তরা বিভাগ।
গ্রেপ্তাররা হলেন মো.ফয়সাল আহাম্মেদ রিগান, মো.তারেক মিয়া, তানভীর আহম্মেদ অন্তর, মো. মিলন, মো.জাবেদ ইকবাল ওরফে বাদল, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো.রতন মিয়া, মো.সেলিম মিয়া, মো.রুবেল মিয়া ও মো.সুমন মিয়া। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে লুন্ঠিত ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা, ১৩ টি মোবাইল ফোন,২ টি চাকু ও প্লাস্টিকের রশি উদ্ধার করা হয়।
শনিবার রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার নাবিস্কো এলাকায় ও ময়মনসিংহের কোতয়ালী থানার চরপাড়া মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিবি কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
তিনি বলেন, গত ১৬ জুন রাজধানীতে গরু বিক্রি করে পাইকারদের একটি দল বিমানবন্দর এলাকা থেকে একটি বাসে উঠে জামালপুর যাওয়ার জন্য। এরপর বাসের দরজা লক করে দেয় হেলপার। আব্দুল্লাহপুর যাওয়ার আগেই পাইকারদের কাছ থেকে বাসের ভাড়া চায় হেলপার। জামালপুরের রাস্তা অনেক দূরে সে জন্য পাইকাররা পরে ভাড়া দিতে চান। এরপরই পাইকারদের শার্টের কলার চেপে ধরে বাসের হেলপারসহ বাসে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা ডাকাত দলের সদস্যরা। তারা পাইকারদের কিল ঘুষি দিয়ে তাদের মুখ বেঁধে ফেলে এবং বিভিন্ন হুমকি দিতে থাকে। এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা পাইকারদের বলে তারা যেন তাদের পুরো টাকা পয়সা ডাকাতদের হাতে তুলে দেয়। না হলে তাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয় ডাকাত দল। পরে পাইকারদের কাছ থেকে পুরো টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাদেরকে রাস্তায় ফেলে দেয় ডাকাত দলের সদস্যরা।
পরে ঘটনার দিন বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলা রুজু হওয়ার পর থেকে এই বিষয়ে কাজ শুরু করে ডিবির উত্তরা বিভাগ। তদন্তের এক পর্যায়ে এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। গ্রেপ্তার এ ১০ ডাকাতের বিরুদ্ধে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর এলাকায় একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তাররা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তারা প্রায়সই ঢাকা ও গাজীপুর রোডে ডাকাতি করে থাকে। এই ডাকাত দলের নেতৃত্বে রয়েছে গ্রেপ্তার বাদল, তারেক ও লিটন নামে আরেক পলাতক ডাকাত। ঈদ-উল-আজাহাকে কেন্দ্র করে অস্থায়ী গরুর হাট গুলোতে তাদের লোকজন থাকে। তারা গরুর পাইকারদের অনুসরণ করে তাদের গাড়িতে তুলে ডাকাতি করে। এছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষ সঙ্গে করে টাকা পয়সা নিয়ে যায়, তারা সেগুলো ডাকাতি করে লুটে নেয়। এই চক্রটি এখন পর্যন্ত ২০০ থেকে ২৫০ টি ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। এবারের ঈদ-উল-আজাহাকে কেন্দ্র করে তারা এখন পর্যন্ত ছয় থেকে সাতবার ডাকাতি করেছে জানায় ডিবি। ঈদের আগে খিলক্ষেত এলাকায় চার জনকে গাড়িতে তুলে চক্রটি পাঁচ লাখ টাকা ও দুটি মোবাইল লুট করে নিয়ে যায়। ঈদের ১০ দিন আগে বিমানবন্দর থেকে এক প্রবাসীকে গাড়িতে তুলে তার টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে যায় চক্রটি।
মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানায়, লুট করার টাকার মধ্য থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে ডাকাত দলের অন্যতম নেতা মো.জাবেদ ইকবাল ওরফে বাদল এবার ঈদে গরু কোরবানি দিয়েছেন। লুটের টাকার মধ্যে থেকে এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে ডাকাত দলের আরেক নেতা মো.তারেক মিয়া একটি গরু কোরবানি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তাদের বিরুদ্ধে ঢাকার আশেপাশে অনেক মামলা রয়েছে সেগুলো তদন্ত করা হবে জানান তিনি। এছাড়া তারা ডাকাতির টাকা কিভাবে ভাগবাটোয়া করা হতো রিমান্ডে নিয়ে তা জানার চেষ্টা করা হবে।
ডাকাত দলের সদস্যরা জানিয়েছে, তারা ২০০ থেকে ২৫০ ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। তাহলে তারা গ্রেপ্তার হয়েছে কয়বার এবং জামিন পেয়েছে কয়েকবার এমন প্রশ্নের উত্তরে হারুন অর রশীদ বলেন, মামলাগুলি বিভিন্ন থানায় হয়েছে। আদালত থেকে তারা কিভাবে জামিন পেয়ে বের হয় সে তথ্য আমরা দিতে পারবো না।








