রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের আগুনে প্রায় ৫০০ দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বলছে তাদের বরাদ্দ দেওয়া দোকান ছিল ৩১৭টি। এরমধ্যে সেখানে ২১৭ দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কেট ও কাঁচা বাজারে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ৭০০-৮০০টি দোকান ছিল। আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, প্রথমে হক বেকারি থেকে আগুনের সূত্রপাত। পরে বাতাসে মুহূর্তেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মার্কেট বন্ধ থাকায় ফায়ার সার্ভিস প্রথমে এসে ভেতরে ঢুকতে পারেনি। এজন্য আগুন আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে আসেন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। তারা চেষ্টা করছেন আগুনের মধ্য থেকে যতটুকু সম্পদ রক্ষা করা যায়। যে যার মতো দোকানের দিকে ছুটছেন। তবে আগুনের লেলিহান শিখায় আগেই অনেকের দোকানের মালামাল পুড়ে গেছে। মার্কেটের এক পাশের জুয়েলারি ও পোশাকের দোকান এবং অপরপাশে সবজি ও মাছ-মাংসের দোকানও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পুড়ে গেছে জুতার দোকান।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, অবৈধ দোকানগুলো ছিল ফুটপাতে। আমাদের বরাদ্দ দেওয়া দোকান ছিল ৩১৭টি। এরমধ্যে এখন পর্যন্ত আমরা যে তথ্য পেয়েছি সেখানে ২১৭ দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর ফায়ার সার্ভিসও বলেছে ভেতরে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। এ ব্যাপারে আমাদের সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, মার্কেটের ব্যবসায়ী যারা আছেন, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আমরা তাদের তালিকা করছি। বিভিন্ন সংস্থা এগিয়ে আসবে। আমরা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তাদের পাশে দাঁড়বো। আমাদের কর্মীরা কাজ করছেন। যতটুকু সম্ভব ডিএনসিসির পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করা হবে।
সিটি করপোরেশনের অধীনে থাকা এই মার্কেটটিতে আগুন নেভানোর কোনো যন্ত্র ছিল না, অবৈধ দোকান ছিল। এমন পরিস্থিতিতে সিটি করপোরেশনের কী ভূমিকা ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এখানে বাজার সমিতি আছে তাদের এই কাজগুলো করার জন্য আমরা বারবার নির্দেশনা দিয়েছি, অনুরোধ করেছি। এই কাজগুলো না করার কারণেই আমরা এখন এর ভয়াবহতা দেখতে পাচ্ছি।
মালিক সমিতি ও ব্যবস্থাপনা কমিটি দায়ী কি না- এমন প্রশ্নের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা তদন্ত করে জানা যাবে কারা দায়ী। তদন্তেই বেরিয়ে আসবে।
আগুনের সূত্রপাত হক বেকারি থেকে
রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে আগুনের সূত্রপাত কাঁচা বাজারের প্রবেশমুখে থাকা হক বেকারি থেকে। বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে এ তথ্য জানান মার্কেটের নতুন কাঁচাবাজার মালিক সমিতির অফিস সহকারী মুশফিকুর রহমান লিটন।

তিনি বলেন, রাত ৩টার দিকে নিরাপত্তাকর্মী এসে আমাকে জানান- হক বেকারি থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি ছুটে গেলাম। গিয়ে দেখি আগুন ধরে গেছে। পরে অফিসে এসে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন দেই। কিন্তু তারা কল ধরে নাই। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দেই। তারা বলে, আমরা তথ্য পেয়েছি। গাড়ি পাঠাচ্ছি। এর আধাঘণ্টা পর দুইটা ছোট গাড়ি আসে। ততক্ষণে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। পরে যে পাঁচ-সাতটা গাড়ি এসেছে এটা আগে এলে ক্ষতি কম হতো।
বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে ধারণা করে মুশফিক বলেন, আগুনের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে হতে পারে। সময় মত গাড়ি এলে আগুনটা কম ছড়াতো। তবে এই এলাকায় আর পানির সংকট ছিল।
বৃহস্পতিবার ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে লাগা আগুন। এর আগে বুধবার ১৩ সেপ্টেম্বর দিনগত রাত ৩টা ৪৩ মিনিটের দিকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট। ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অগ্নিনির্বাপণ সাহায্যকারী দল।








