নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে শাহবাগ মোড় ছেড়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বিকেল থেকে সারাদেশে আবারও ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তারা৷
সরকারি চাকরির সব গ্রেডে কোটাব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার করে সংসদে আইন পাসের এক দফা দাবিতে এই আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা।
আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে এসে বেলা সোয়া ১১টা থেকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে সন্ধ্যা ৭টা ৩৩ মিনিটে তারা রাস্তা ছেড়ে দেয়৷
আন্দোলনকারীদের মধ্যে থেকে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে আবারও সারাদেশে রেলপথ ও সড়কে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। বিকেল সাড়ে তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে ব্লকেড কর্মসূচির মিছিল শুরু হবে৷ সারাদেশে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় বিভিন্ন পয়েন্টে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করবে৷
আজকের কর্মসূচি সফল হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্রের বিষয়ে আমরা হাইকোর্টের বারান্দায় যেতে চাই না৷ আমরা পড়াশোনায় থাকতে চাই৷ আমাদের এক দফা দাবি না মানা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা রাজপথে থাকবে৷ নির্বাহী বিভাগকে বলতে চাই, দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের দাবি মেনে নিন, যাতে আমরা দ্রুত পড়ার টেবিলে ফিরে যেতে পারি৷’
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে আজ বুধবার দুপুর পৌনে ১২টা থেকে ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে রেল চলাচল শুরু হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহসহ দেশের সাতটি স্থানে আন্দোলনকারীরা রেলপথ অবরোধ করেছিল। এ সময় ঢাকায় কোনো ট্রেন প্রবেশ করতে বা বের হতে পারেনি।
কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে কোটা পুনর্বহালের যে রায় হাইকোর্ট দিয়েছিল তার বিষয়বস্তুর ওপর চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাসকো) দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। তারপরেও নিজেদের দাবিতে অনঢ় থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।










