শুরু হয়েছে ২০২৫ সালের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। তবে এবছরের বইমেলায় থাকছে না বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন।
ভয়েস অব আমেরিকা জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া ৪৮তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা চলবে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এ বছর বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন থাকছে না। এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের কবি, লেখক, প্রকাশক ও আপামর বইপ্রেমীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেও চাপান-উতোর চলছে।
১৯৭৬ সাল থেকে এই বইমেলা শুরু হলেও ১৯৯৬ সাল থেকে এই বইমেলায় বিশেষ প্যাভিলিয়ন থাকে বাংলাদেশের। কোভিড ও ময়দান সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কয়েকবার বইমেলা আয়োজিত হয়নি; তা ছাড়া প্রতিবছরই বাংলাদেশ তাদের বিশাল বইয়ের সম্ভার নিয়ে পৃথক প্যাভিলিয়ন আলো করে থাকে। তবে, এবার চিত্রটা ভিন্ন।
গত বছর বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে আশ্রয় নেওয়ায় এবং বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের ঘটনার পর দুই প্রতিবেশি দেশের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় এ বছর বাংলাদেশে কেন থাকছে না তা নিয়ে গিল্ডের সভাপতি ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে যথাযথ জায়গা থেকে আমাদের কাছে আবেদনপত্র আসেনি, তাই আগ বাড়িয়ে আমরা বাংলাদেশকে স্থান দিতে পারিনি; দেওয়া সম্ভব নয়। তবে, আমরা নিজেরাও খুব বেদনাহত রয়েছি।’

দুই বাংলার জনপ্রিয় কবি ও পশ্চিমবঙ্গ কবিতা অ্যাকাডেমির সভাপতি সুবোধ সরকার বলেন, ‘আমি যতদূর জানি, কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় ভারতের বাইরে থেকে যে সব প্রকাশক আসেন তাদের পররাষ্ট্র দপ্তরে একটা ছাড়পত্র দরকার হয়। অর্থাৎ সম্পূর্ণ সরকারিভাবে এই প্রক্রিয়াটা চলে। ভারত সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে তারা গিল্ডের কাছে আবেদনপত্র পাঠান। সেইভাবে গিল্ড সেগুলিকে গ্রহণ করে। আন্তর্জাতিক বিষয়ের ক্ষেত্রে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর সিদ্ধান্ত নেয়। এইভাবে বাংলাদেশ এতদিন আবেদন করে এসেছে।’
তিনি আরও জানান, ‘এ বছর বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশন থেকে কোনোরকম চিঠি আসেনি। বাংলাদেশ থেকে কোনো চিঠি ওদের মাধ্যমে এসে পৌঁছায়নি। ভারত সরকারের কাছ থেকেও সুপারিশ আসেনি। তাতে গিল্ড কী করতে পারে?’ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।’
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি কলকাতা এবার তাদের বই মেলায় বাংলাদেশকে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয়নি। আমি এটা পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি। তবে, আমি এখন পর্যন্ত অফিসিয়ালি কোনও চিঠি পায়নি।’
এই বিষয়ে জানতে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করা হলে প্রতিবারই ব্যক্তিগত সহকারী মামুন তা রিসিভ করেন। কলকাতার বই মেলায় বাংলাদেশের অংশ নেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টার মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি এই বিষয়ে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
পরে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি কলকাতা এবার তাদের বই মেলায় বাংলাদেশকে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয়নি। আমি এটা পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি। তবে, আমি এখন পর্যন্ত অফিসিয়ালি কোনও চিঠি পায়নি।’
কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার আয়োজক পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তীকালে বাংলাদেশ অবশ্যই আসবে।
এ বছর ‘থিম কান্ট্রি’ জার্মানি। বাংলাদেশও তিনবার থিম দেশ হওয়ার সম্মান লাভ করেছে যথাক্রমে ১৯৯৯, ২০১৩ ও ২০২২ সালে। যুক্তরাষ্ট্রকে থিম কান্ট্রি করা হয়েছিল ২০০৮ সালে, তবে সেবার মেলা স্থগিত হয়ে যায়। ২০১১ সালে আবার যুক্তরাষ্ট্রকে এই বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়।







