একটা সময় বিরাট কোহলির প্রিয় খাবারের তালিকায় ছিল মুরগি দিয়ে তৈরি রকমারি আইটেম। ফিটনেসের প্রয়োজনে গত কয়েকবছর সেটি বাদ দিয়েছেন ভারতীয় মহাতারকা। বিপত্তি বেধেছে ‘মক চিকেন টিক্কা’ খেয়ে ইনস্টাগ্রামে ছবি পোস্ট দেয়ার পর। নেট দুনিয়ার ঝড় উঠেছে, তবে কোহলি ভেজিটেরিয়ান থেকে আবারও আমিষে ফিরলেন?
ইনস্টাগ্রামে মঙ্গলবার একটি ছবি পোস্ট করেন ৩৫ বর্ষী কোহলি, শিরোনামে লেখেন- ‘তুমি সত্যি আমাকে একটি মক চিকেন টিক্কা খাওয়ালে।’ কোহলির এই পোস্টের মধ্যে রয়েছে একটি শুভঙ্করের ফাঁকি। ছবিতে কোহলি যে চিকেন টিক্কার ছবি দিয়েছেন, সেটি মূলত ‘মক চিকেন টিক্কা’।
অর্থাৎ, এটি প্রাণীজ আমিষ থেকে নয়, এটি উদ্ভিজ্জ আমিষ দিয়ে তৈরি। সেই কারণে এটি নিরামিষ হিসেবেই বিবেচিত হবে। এটি বানাতে মুরগির পরিবর্তে সয়া ব্যবহার করা হয়।
কয়েকবছর ধরে মুরগি ও মাংসের আইটেমগুলোর নিরামিষ সংস্করণ বাজারে আসছে। সেগুলো মূলত সয়া দিয়ে তৈরি করা হয়। দেখতে ও স্বাদে অনেকটা আসল মুরগির মতোই। হঠাৎ করে কেউ খেলে আসল চিকেনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলতে পারেন! মোটকথা মুরগির সেই ‘মক’ আইটেমটি নিরামিষই থেকে যায়।
২০২০ সালে কোহলি ব্যাখ্যা করেছিলেন কেন নিরামিষভোজী হয়েছিলেন। শরীর থেকে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড নিঃসরণ করত খাদ্যাভাসে পরিবর্তন করেছিলেন। সেসময় ইনস্টাগ্রামে একটি লাইভ সেশনে বলেছিলেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি।’

‘২০১৮ সালে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট চলাকালীন আমার সার্ভিক্যাল মেরুদণ্ডে সমস্যা হয়েছিল। একটি স্নায়ু সংকুচিত হতে থাকলে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করি। আমার ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুলেও সেটি ছড়িয়ে পড়ে। সেসময় পাগলের মতো কাতরাচ্ছিলাম, এমনকি রাতেও ঘুমাতে পারিনি।’
‘তারপর ডাক্তারের পরামর্শে পরীক্ষা করাই। জানতে পারি আমার পেট খুব অম্লীয়, এমনকি শরীরও। অত্যধিক ইউরিক অ্যাসিড তৈরি করে। যদিও ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম নিচ্ছিলাম, তবে একটি ট্যাবলেট ছাড়া সবকিছুই আমার শরীরে সঠিকভাবে কাজ করার জন্য যথেষ্ট ছিল না। তাই আমার পাকস্থলী ক্যালসিয়াম টানতে শুরু করে হাড় থেকে এবং আমার হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কারণে ইউরিক অ্যাসিড কমানোর জন্য ইংল্যান্ড সফরের মাঝখানে মাংস খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিলাম।’
‘আশ্চর্যজনকভাবে এরপর থেকে দারুণ অনুভব করি। এখন প্রায় দুবছর এবং এটি আমার নেয়া সেরা সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটি। তখন আমার মনে হতে থাকল কেন এই সিদ্ধান্তটি আগে নেইনি।’







