পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপে সুপার ফোরে হারার পর সংবাদ মাধ্যমের সামনে মনের দুয়ার খুলে দিয়েছিলেন বিরাট কোহলি। গত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর দুঃসময়ের ক্ষণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, বলেছেন সেটাও। সেসময় মহেন্দ্র সিং ধোনি ছাড়া কোচ, সতীর্থ, সমালোচকদের কাউকেই পাশে পাননি বলে জানিয়েছেন।
কোহলি অকপটেই বলেছেন, ‘যখন টেস্টের অধিনায়কত্ব ছাড়লাম, মাত্র একজন মানুষের কাছ থেকে বার্তা পেয়েছিলাম, যার সঙ্গে আগে খেলেছি— নামটা এমএস ধোনি। তখন অনেকের কাছে আমার ফোন নম্বর ছিল। টিভিতে অনেকে পরামর্শ দিচ্ছিল, অনেককিছু বলছিল। কিন্তু নম্বর থাকা সত্ত্বেও তারা একটা বার্তাও আমাকে পাঠায়নি।’
৩৩ বর্ষী তারকার এমন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না সুনীল গাভাস্কার। ভারতীয় কিংবদন্তি বলেছেন, যারা কোহলির সঙ্গে যোগাযোগ করেননি তাদের নাম প্রকাশ করা উচিৎ ছিল।
‘তিনি কী বার্তা চেয়েছিলেন? উদ্দীপনামূলক বার্তা? তার অধিনায়কত্ব না থাকলে উদ্দীপনার প্রয়োজন হবে কেন? তার অধিনায়কত্বের অধ্যায়ও ইতিমধ্যে শেষই হয়ে গেছে।’ খানিকটা খোঁচার স্বরে বলেছেন গাভাস্কার।
‘এখন আপনি কেবল একজন ক্রিকেটার হিসেবে খেলছেন। সেই ভূমিকায় মনোযোগ দিন। কারণ অধিনায়ক থাকলে সতীর্থদের নিয়ে চিন্তা করতে হয়। অধিনায়কত্ব শেষ হয়ে যাওয়ায় কেবল নিজের খেলায় মনোযোগ দেয়ার সময়।’
‘জানি না এই সমস্ত খেলোয়াড়ের সাথে ড্রেসিংরুমের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি কী ছিল। যোগাযোগ করা একজন ব্যক্তির নাম তিনি বলেছেন। যারা যোগাযোগ করেনি, সেই ব্যক্তিদের নামও বলা উচিৎ ছিল। তাহলে কেউ যোগাযোগ করেনি- এমন বলার চেয়ে সেটা বেশি ন্যায্য হতো।’
১৯৮৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর নিজে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেয়ার প্রসঙ্গও টেনেছেন গাভাস্কার। বলেছেন, ওই সময় তার প্রতি বিশেষ কোনো বার্তা ছিল না।
‘আমি ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব ক্রিকেটের পরে অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলাম। সেই রাতে আমরা উদযাপন করেছি। একে অপরকে জড়িয়ে ধরেছিলাম। কিন্তু এর বাইরে আপনি আর কী আশা করেন?’







