ইয়ূর্গেন ক্লিন্সম্যানকে একহাত নিয়েছেন ইরান কোচ কার্লোস কুইরোজ। নিজের, ইরানের ও দেশটির সংস্কৃতি নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় জার্মান কিংবদন্তিকে নিচু মানসিকতার বলে সমালোচনা করেছেন। ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপে কাজ করা ক্লিন্সম্যানকে ইরানে আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি সংস্থাটির পদ ত্যাগ করার পরামর্শও দিয়েছেন পর্তুগিজ কোচ।
শনিবার ওয়েলসকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে থাকার ম্যাচে ইরান কড়া ট্যাকল করে খেলেছে বলে দাবি ক্লিন্সম্যানের। পরে সংবাদমাধ্যমে বলেছেন ইরানের মারামারি অভ্যাস আছে, ‘এটাই ইরানের সংস্কৃতি। তাই ইরানের জাতীয় দলের সঙ্গে এত খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছেন কার্লোস।’
কুইরোজের অভিযোগ সেটা নিয়েই। প্রশ্ন তুলেছেন, ক্লিন্সম্যান কে যিনি তাকে এবং ইরানকে নিয়ে কথা বলবেন!
জার্মানদের বিশ্বকাপ জেতানো ক্লিন্সম্যান অবশ্য কার্লোসের সমালোচনা করতে রাখঢাক রাখেননি। পর্তুগিজ কোচের কোচিং ক্যারিয়ার তুলে বলেছেন, ‘লাতিন আমেরিকায় সমস্যার মুখে পড়েছিলেন কুইরোজ। কলম্বিয়াকে বিশ্বকাপের যোগ্যতা-অর্জন করাতে পারেননি। মিশরের ক্ষেত্রেও ব্যর্থ ছিলেন। বিশ্বকাপের ঠিক আগে ইরানে ফিরে যান। সেখানে দীর্ঘদিন কাজ করে আসছেন।’
বাজে ট্যাকল করে খেলার বিষয়টি তুলে বলেছেন, ‘ওয়েলসের বিপক্ষে কার্ডগুলো কাকতালীয় নয়। সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে করা। এটা ওদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবেই ইরান খেলে। রেফারির উপরও চাপ তৈরি করে। সারাক্ষণ কিছু বলতে থাকে।’
শিষ্যদের নিয়ে করা এত সমালোচনা সহ্য করতে পারেননি কার্লোস। ইনস্টাগ্রামে জার্মান কিংবদন্তিকে ধুয়ে দিয়ে ইরানে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বলেছেন ফিফার চাকরি ছেড়ে নিরপেক্ষ থাকার কথা, ‘আমরা আশা করছি, ইরানে আসার আগে আপনি ফিফার চাকরি থেকে পদত্যাগ করবেন।’
পোস্টে কুইরোজ লিখেছেন, ‘প্রিয় ইয়ূর্গেন, আমায় কার্লোস বলার উদ্যোগ নিয়েছেন আপনি। তাই আমার বিশ্বাস আপনাকে ইয়ূর্গেন বলার বিষয়টি ঠিক। তাই না? এমনকি ব্যক্তিগতভাবে না জানলেও চিরাচরিত শ্রেষ্ঠত্ব হিসেবে ভাবার নিচু মানসিকতা থেকে আমার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মাঠে আপনি যা করেছিলেন, সেজন্য যতই সম্মান প্রদর্শন করি না কেনো, ইরানের সংস্কৃতি, জাতীয় দল ও আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে আপনার মন্তব্য ফুটবলের জন্য লজ্জাজনক।’








