রাজধানীর মহাখালীর খাজা টাওয়ারে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১১ টি ইউনিট। এখন পর্যন্ত ভবনটি থেকে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। ধারণা করা হচ্ছে ২০-২৫ জন মানুষ আটকে আছে ভবনটিতে।
ভবনটির বিভিন্ন ফ্লোরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে মোবাইলের লাইট জ্বালিয়ে বাঁচার জন্য আকুতি জানাচ্ছে আটকে পড়ারা। তারা ওপর থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বার বার আকুতি জানাচ্ছেন তাদের নামিয়ে আনতে। তাদের মধ্যে অনেকের শ্বাসকষ্ট হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে রাত ৭ টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেল থেকে জানিয়েছে এখন পর্যন্ত ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
আটকে আছেন অনেকই
এখন পর্যন্ত আগুনে হতাহতের কোনো খবর পায়নি ফায়ার সার্ভিস। তবে ভবনটিতে অনেক মানুষ আটকে আছে এমন খবর আসছে ফায়ার সার্ভিসের কাছে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক বলেন, আগুনের ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেনি। তবে আমরা অনেক ফোন পাচ্ছি যে ভবনে মানুষ আটকে আছে।
ভবনের ভিতরে আটকে পড়ারা ফোন দিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভবনের ভিতরে আটকে পড়া কারো ফোন আমরা পাইনি। তবে ভবনের আশপাশে ও বাহির থেকে অনেক মানুষ জাতীয় জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে বলছেন যে ভিতরে অনেক মানুষ আটকে আছে। পরে ৯৯৯ ফোনগুলো আমাদের কাছে ফরওয়ার্ড করছে। ভিতরে কেউ আটকে আছে কিনা সেটা নিশ্চিত হতে ও আটকে থাকলে তাদের উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে আমাদের টিম কাজ করছে।
টিটিএল দিয়ে ভাঙ্গা হচ্ছে গ্লাস
ফায়ার সার্ভিস টিটিএল এর সাহায্যে খাজা টাওয়ারের বিভিন্ন ফ্লোরের জানার গ্লাস ভাঙা হচ্ছে। গ্লাস ভেঙে দেখা হচ্ছে আগুন ও মানুষ আছে কিনা।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক বলেন, খাজা টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আমাদের ১১ টি ইউনিট কাজ করছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে দুইটি লেডার সংবলিত অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজের গাড়ি (টিটিএল) নেওয়া হয়েছে। টিটিএল দিয়ে টাওয়ারের বিভিন্ন ফ্লোরের গ্লাস ভাঙা হচ্ছে। গ্লাস ভেঙে দেখা হচ্ছে ভিতরে আগুন ও মানুষ আছে কিনা।
মহাখালীতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন
আগুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহাখালী এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
আগুন লাগার পর আমতলী থেকে গুলশান এক নম্বরমুখী সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া আগুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহাখালী এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী নৌবাহিনী বিমানবাহিনী
খাজা টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় যোগদান করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট থেকে তারা ফায়ার সার্ভিসকে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহয়তা করছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ব্যাটালিয়ন আনসারের ৭ প্লাটুন মোতায়েন
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৭ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখা, অগ্নি নির্বাপনের কাজে সহায়তা করতে ২ প্লাটুন ব্যাটালিয়ন আনসার এবং ৫ প্লাটুন প্লাটুন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী উপপরিচালক (প্রকল্প- প্রশিক্ষণ) মো. জাহিদুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে বিকেল ৪টা ৫৯ মিনিটে তারা মহাখালীর খাজা টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডের খবর পায়। বিকেল ৫টা সাত মিনিটে প্রথম ইউনিট আগুন নেভাতে যোগ দেয়।








