আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী হওয়ার পর ইসলামের মৌলিক আকিদা-বিশ্বাসের অন্যতম হচ্ছে খতমে নবুওয়াত। খতমে নবুওয়াতের অর্থ হচ্ছে নবুওয়াতের পরিসমাপ্তি। আল্লাহর হাবিব হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৃষ্টি হিসেবে আল্লাহর প্রথম সৃষ্টি ও নবী হিসেবে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ নবী ও রসুল। তাঁর মাধ্যমেই আল্লাহ তা’আলা নবুওয়াতের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন।
এই আকিদাকে আকিদায়ে খতমে নবুওয়াত বলে।
আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, ‘মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের কোন পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রসুল ও সর্বশেষ নবী। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বজ্ঞ।’ (সুরা আহযাব: ৪০)। এই আয়াতে আল্লাহ তা’আলা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত সর্বশেষ নবী ও রসুল, যা নতুন করে কোন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের অবকাশ রাখে না।
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন ‘আমার উম্মতের মধ্য থেকে ত্রিশ জন মিথ্যাবাদী আত্মপ্রকাশ করবে। তাদের প্রত্যেকে নবী বলে দাবি করবে। অথচ আমি খাতামুন্নাবিয়ীন তথা সর্বশেষ নবী, আমার পরে আর কোনো নবী নেই।’ (সুনানে তিরমিযি ২/৪৫; মুসনাদে আহমদ ৬/৩৭৩)
এই হাদিস শরিফের আলোকে প্রমাণিত হয়, নিঃসন্দেহে হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সর্বশেষ নবী ও রসুল। তাঁর পরে যারা নবুওয়াত কিংবা রিসালতের দাবি করবে তারা মিথ্যাবাদী মালাউন মুরতাদ।
আল্লামা ইবনে কাসির রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘জেনে নেওয়া আবশ্যক, এরপর যদি কেউ নবী দাবি করে, সে মিথ্যাবাদী, প্রতারক, দাজ্জাল, পথভ্রষ্ট এ বিষয়ে উম্মাহর ইজমা প্রতিষ্ঠিত।’
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আমার ও আমার পূর্ববর্তী নবীদের দৃষ্টান্ত এই যে, এক ব্যক্তি গৃহ নির্মাণ করল এবং তা সুচারুরূপে সমাপ্ত করল তবে একটি ইটের স্থান শূন্য রেখে দিল। এবার লোকেরা তাতে প্রবেশ করে তার নির্মাণকুশল দেখে চমৎকৃত হল। কিন্তু ওই শূন্য স্থানটি দেখে বলতে লাগল, ‘এই একটি মাত্র ইটের স্থান যদি শূন্য না থাকত!’ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি হলাম সেই শূন্য স্থানের ইট। আমি প্রেরিত হলাম এবং নবী আগমনের ধারা সমাপ্ত হল। (সহিহ বুখারি ১/৫০১; সহিহ মুসলিম ২/২৪৮)
সুতরাং খতমে নবুওয়াত বিশ্বাস করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপরিহার্য। যে ব্যক্তি প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খতমে নবুওয়াত তথা সর্বশেষ নবী হওয়াকে অস্বীকার করবে সে নিশ্চিতভাবে কাফের হয়ে যাবে।








