রবিবার চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়ার গ্রেপ্তার নিয়ে শোবিজ অঙ্গনে যখন চাপা নীরবতা, তখন প্রথম সারির ছোটপর্দার অভিনেতা খায়রুল বাসার খোলামেলা প্রতিবাদ জানিয়ে আলোচনায় আসেন। তার বক্তব্যে ফুটে ওঠে শিল্পীর স্বাধীনতা, পেশাগত সম্মান এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের প্রতি এক ধরনের প্রশ্নবোধকতা।
ফেসবুক পোস্টে খায়রুল বাসার লেখেন—“উনি একজন অভিনেত্রী, তার কাজ অভিনয় করা। কোনো গল্পে যে চরিত্রটা পাবেন, সে চরিত্রের যথাযথ প্রকাশ করাই তার পেশাগত দায়িত্ব। আমার ধারণা, উনি রাজনীতি সচেতন না, কোনো রাজনীতিতেও যুক্ত নন। এমনকি বিটিভিতে গিয়ে মায়া কান্নাও করেননি।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি সিনেমায় অভিনয়ের কারণে একজন শিল্পীকে কেন হেনস্তা হতে হবে? বাসার বলেন, “ওই সিনেমায় কাজ করার জন্য অনেককে অডিশনের জন্য ডাকা হয়েছিল। যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারাই অভিনয় করেছেন। এটা খুবই স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। এখানে কেউ রাজনীতি করতে যাননি।”
তিনি যুক্ত করেন, “একজন অভিনেত্রীর সিনেমায় অভিনয় করা কোনো ক্রাইম না। যদি তাই হয়, তবে নুসরাত ফারিয়ার সাথে সত্যিই অন্যায় হচ্ছে।”
খায়রুল বাসার পোস্টের শেষ অংশে আরও গভীর প্রশ্ন তোলেন। বলেন— “বর্তমান সরকার যদি শিল্পীদের কোন রাষ্ট্রীয় আয়োজনে ডাকেন এক্ষেত্রে শিল্পীদের করণীয় কী হবে? এই সরকার পরবর্তীতে অন্য সরকার তাদের হেনস্তা করবে এই মেনে হুকুমের দাস হবে? নাকি শিল্পীরা কখনোই কোন সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রীয় আয়োজনের অংশ হবে না?”
তিনি মিডিয়া সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানান—“মিডিয়া সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, আপনারা কমেন্টে মতামত জানাতে পারেন।” বাসারের সেই পোস্টে মন্তব্য এসেছে প্রায় দেড় হাজার।
রবিবার নুসরাত ফারিয়াকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট থেকে তাকে আটক করা হয়। নায়িকার বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় করা একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ওই মামলায় তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আসামি করা হয়। সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।







