ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর ফলে দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের শেষ শাহ (সম্রাট বা রাজা) মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির স্ত্রী ফারাহ পাহলভি।
মঙ্গলবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৮৭ বছর বয়সী ফারাহ পাহলভি বলেন, কোনো কেন্দ্রীয় ব্যক্তির মৃত্যু হলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরো ব্যবস্থার অবসান ঘটাবে না। একজন ব্যক্তির মৃত্যু তিনি যতই ক্ষমতার কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু হোন না কেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ব্যবস্থার সমাপ্তি ঘটায় না।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্যারিসে নির্বাসিত জীবনযাপনকারী ফারাহ পাহলভি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান।
তার ছেলে রেজা পাহলভি ইতিমধ্যে সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে দেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণ, আইনভিত্তিক ও সার্বভৌম রাষ্ট্রব্যবস্থায় রূপান্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত রেজা পাহলভি নিজেকে বর্তমান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন। সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় অনেক বিক্ষোভকারী তার পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ইরানের বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীকে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবে স্বামী মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভিসহ ফারাহ পাহলভিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। ওই বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামী প্রজাতন্ত্র।







