যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ শনিবারের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আগে রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে। সেখানে তিন দিন মরদেহ রাখা হবে এবং শনিবার অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রীয় জানাজা ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, প্রকাশিত ছবিতে ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিন শোকাহত মানুষ কাঁধে করে গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নিয়ে যেতে দেখা গেছে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে পুরো কমপ্লেক্স খামেনির ছবি, ব্যানার, লাল ফুল ও বিভিন্ন সাজসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় দেড় কোটি থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। পাশাপাশি প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে ইসলামাবাদ নিশ্চিত করেছে। এছাড়া চীন, আফগানিস্তান এবং ককেশাস অঞ্চলের কয়েকটি দেশও প্রতিনিধি পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও তেহরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ দেশবাসীকে ব্যাপকভাবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধের দাবিতে জাতির ঐক্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে।
রাষ্ট্রীয় আয়োজনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তেহরানের কেন্দ্রীয় এলাকায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার থেকে রাজধানীর আকাশসীমা আংশিক এবং সোমবার পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অনুষ্ঠান শেষে খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। এরপর আগামী ৯ জুলাই ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জনসমক্ষে না আসা খামেনির ছেলে ও সম্ভাব্য উত্তরসূরি মোজতাবা খামেনি মূল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হয়নি।








