ইরানে ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন কার্যক্রমের প্রথম ধাপের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে তাঁর মরদেহ রাখা হয়েছে, যেখানে বিদেশি প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরে খামেনি এবং তাঁর সঙ্গে নিহত অন্যদের মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নেওয়া হয়। পরে প্রধান নামাজের কক্ষে মরদেহ রাখা হলে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদনের কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রথম দিকের বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানের ইসলামি আলেম এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। এছাড়া ইরানে স্বীকৃত বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, দাফনসংক্রান্ত বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় প্রায় ১০০টি দেশের প্রতিনিধিদল, বিশিষ্ট ব্যক্তি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেবেন।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অন্তত আটজন রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান এবং ১২টি দেশের পার্লামেন্ট স্পিকার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া অনেক দেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী বা বিশেষ দূতের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল পাঠাবে।
বাঘাই আরও জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি পূর্ব ইউরোপের সরকারি প্রতিনিধি ও পার্লামেন্ট সদস্যরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। তবে যেসব ইউরোপীয় দেশ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছে, তাদের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
সরকারি আয়োজন শুরুর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ব্যক্তিগত বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিহত ব্যক্তিদের স্বজন এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশবাসীর প্রতি শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জাতিগত পরিচয়, রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা ধর্ম নির্বিশেষে সব ইরানিকে মর্যাদাপূর্ণ ও ব্যাপক উপস্থিতির মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের বার্তা তুলে ধরার আহ্বান জানান।
ইরানের কর্মকর্তাদের ধারণা, কয়েক দিনব্যাপী দাফনসংক্রান্ত এসব আয়োজনে এক কোটি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন।
সূচি অনুযায়ী, শনিবার ও রোববার গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হবে। সোমবার তেহরানে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পবিত্র শহর কুমে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালিত হবে। পরে ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে আগামী ৯ জুলাই মাশহাদে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে দাফন করা হবে।
উল্লেখ্য, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।








