প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত আসামী। বিশ্বের কোন সাজাপ্রাপ্ত আসামী বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পেরেছেন? সরকারপ্রধান হিসেবে আমার যতটুকু ক্ষমতা ছিল সেই অনুযায়ী তাকে বাসায় থেকে চিকিৎসা করার সুযোগ দিয়েছি। এখন যদি তাকে বিদেশে যেতে হয়, তাহলে আমি বাসায় থাকার যে পারমিশনটা দিয়েছিলাম তা উইথড্র করতে হবে। তাকে আবার জেলে যেতে হবে। কোর্টে যেতে হবে। কোর্ট যদি অনুমতি দেয় তাহলে তিনি যেতে পারবেন।
ভয়েস অফ আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর অনুমোদন দেয়া প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি, তার দল ও সরকার যখন মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দীর্ঘ লড়াই করে বাংলাদেশের জনগণের ভোটের অধিকার ও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করেছেন ও বাংলাদেশ যখন উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে তখন হঠাৎ কেন এধরণের স্যাংশন তা তিনি জানেন না।
তিনি আরো দাবি করেন যে, বাংলাদেশেই এখন অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী হয়েছে, তাই ভিসা স্যাংশন এর ফলে যদি (বাংলাদেশিরা) আমেরিকাতে আসতে না পারে তাতে কিছু যায় আসে না।
উল্লেখ্য, এ বছরের মে মাসের ২৪ তারিখে বাংলাদেশে সুষ্ঠু, ও অবাধ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রক্রিয়াকে বাধাদানকারী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নতুন ভিসা-নীতি ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর, এই নতুন ভিসা-নীতির আলোকে ভিসা নিষেধাজ্ঞা চালু করার পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র নিতে শুরু করেছে বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের অফিস, আমেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ দেশি বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো তার সরকারের আমলে গত ১৫ বছরে গুমের ঘটনার যে অভিযোগগুলো করেছে, সে ব্যাপারে তার সরকারের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারে তিনি সদ্য পাস হওয়া সাইবার নিরাপত্তা আইনের যে ধারাগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তারও জবাব দেন।
৩৫ মিনিটের এ সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে আগামী জাতীয় পার্লামেন্ট নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার জন্য বিরোধীদলগুলোর দাবিকে নাকচ করে দিয়ে বলেন, এ ব্যবস্থায় ফেরত যাবার কোনো সুযোগ নেই। বিরোধীদলগুলোর বিশেষ করে প্রধান বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মামলা দায়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে অপরাধ করলে মামলা হবে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবসান ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তার সংকট নিয়েও প্রশ্নের উত্তর দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি।








