এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
র্যাপ গানের মাধ্যমে দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুবসমাজের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন কাঠমান্ডুর মেয়র বলেন্দ্র শাহ, যিনি সবার কাছে ‘বালেন’ নামেই পরিচিত।
সেই র্যাপার-রাজনীতিক বালেন এখন নেপালের তরুণ প্রজন্মের কাছে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায়।
নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভে অন্তত ১৯ জন নিহত হওয়ার পর মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর থেকে তরুণ বিক্ষোভকারীরা পরবর্তী নেতৃত্বে দেখতে চাইছেন বালেন শাহকে।
র্যাপার থেকে রাজনীতিক
রাজনীতিতে প্রবেশের আগে বালেন প্রধানত ছিলেন র্যাপার, গীতিকার এবং সমাজ সচেতন ইনফ্লুয়েন্সার। তাঁর গানগুলোতে দুর্নীতি, বৈষম্য ও উন্নয়নের অভাবের মতো সমস্যা উঠে আসত। কাঠমান্ডুর আন্ডারগ্রাউন্ড হিপ-হপ দৃশ্যে তাঁর সংগীত তরুণদের হতাশা ও প্রতিরোধের ভাষা হয়ে উঠেছিল।
তাঁর জনপ্রিয় গান ‘বলিদান’ (ত্যাগ) ইউটিউবে আগে ৬ মিলিয়ন ভিউ পেয়েছিল। তবে চলমান বিক্ষোভে গানটি আবারো আলোচনায় আসে এবং দ্রুত ১১ মিলিয়নের বেশি ভিউ ছুঁয়ে যায়। শুধু তাই নয়, ৮ সেপ্টেম্বর বালেন তার ফেসবুকেও ‘বলিদান’ গানের কিছু অংশ আপলোড করেন। যা মুহূর্তে কোটি ভিউ ছড়িয়ে যায়! এই গান বিক্ষোভরত তরুণদের জন্য যেন অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে ওঠে।
তরুণদের আস্থা ও নেতৃত্ব
র্যাপ গান দিয়েই তরুণদের সাথে এক বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পেরেছিলেন বালেন। তাঁদের ভাষা, তাঁদের হতাশা ও স্বপ্নকে তিনি নিজের সৃষ্টির মধ্যে প্রকাশ করেছেন। ফলে তরুণরা তাঁকে এমন একজন নেতা হিসেবে দেখছে, যিনি তাঁদের প্রতিনিধি হতে পারেন।
২০২২ সালে স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডু মহানগরীর মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৬১ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হন তিনি। এ বিজয়কে নেপালের জনগণ প্রচলিত রাজনীতির বাইরে নতুন এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছিলেন।
ভারতীয় সিনেমা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে আলোচনায়
২০২৩ সালে আবার আলোচনায় আসেন বালেন। প্রভাস অভিনীত ভারতীয় সিনেমা ‘আদিপুরুষ’-এ সীতাকে ভারতের কন্যা হিসেবে উল্লেখ করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরিচালককে সংলাপটি বাদ দিতে অনুরোধ জানালেও তা মানা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কাঠমান্ডুর প্রেক্ষাগৃহে ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তার এই সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে আলোচনা তৈরী করে, এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রশংসিত হয়।
প্রতিরোধের প্রতীক
প্রতিবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার বালেন সবসময়ই তরুণদের বলেন— ন্যায়-অন্যায়ের প্রশ্নে তাকেও যেন ছাড় না দেওয়া হয়। আন্দোলনে যোগ দেওয়া প্রজন্ম তাই তাঁকে নিজের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেছে।
এখন প্রধানমন্ত্রী ওলির পদত্যাগের পর সেই তরুণদের মুখেই উচ্চারিত হচ্ছে বালেন শাহর নাম। একসময় যিনি আন্ডারগ্রাউন্ড হিপ-হপ দৃশ্যে কণ্ঠ তুলেছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে, তিনিই আজ নেপালের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠছেন।
বালেন দিলেন শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, নেপাল এখন এক নতুন রাজনৈতিক যুগের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। তরুণ প্রজন্মের রোষ ও প্রত্যাশার প্রতীক হয়ে উঠেছেন বালেন শাহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাঁকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছেন।
চলমান বিক্ষোভে তরুণদের সংযমের আহ্বান জানিয়ে বালেন এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “দেশের সম্পদের ক্ষতি আসলে আমাদের নিজেদের ক্ষতি। এখন আমাদের সংযমী হয়ে কাজ করাই সবচেয়ে জরুরি।” ওয়ানইন্ডিয়া







