২০০৬ সালে দীনেশ কার্তিকের যখন আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল, তখনো এই ফরম্যাটের বিশ্বকাপের আয়োজনও হয়নি। তার আরও পরে শুরু হয়েছিল আইপিএল।
প্রায় ১৬ বছরে ভারতের জার্সিতে কার্তিক ৩৬টির বেশি টি-টুয়েন্টিতে খেলারই সুযোগ পাননি। কিভাবেই বা পাবেন? মহেন্দ্র সিং ধোনির স্বর্ণযুগে তো আর এই উইকেটরক্ষক ব্যাটারের নিয়মিত দলে জায়গা পাওয়ার উপায়টাই আসলে তেমন ছিল না।
বেলা গড়িয়েছে অনেক, বয়সটাও হয়ে গেছে ৩৭। তবু জাতীয় দলে খেলার আশাটা কখনোই ছাড়েননি। এখন ব্যাট হাতে দেখানো শুরু করেছেন বুড়ো হাড়ের ভেল্কি। সাউথ আফ্রিকার বোলারদের বিপক্ষে ছড়িয়েছেন জ্যোতি।
গ্লাভসটা অধিনায়ক রিশভ পান্টের হাতেই আছে, তাই শুধু ব্যাটারের ভূমিকাতেই কার্তিকের করে দেখানোর সুযোগ। আর সেটা করে দেখালেন একদম সময় মতোই, তার ব্যাটে ভর করেই যে ৫ ম্যাচ টি-টুয়েন্টি সিরিজে সমতায় ফিরল ভারত।
রাজকোটে শুক্রবার হওয়া ম্যাচে সাউথ আফ্রিকাকে ৮২ রানের বড় ব্যবধানে হারায় টিম ইন্ডিয়া। আগে ব্যাট করা স্বাগতিকরা করে ৬ উইকেটে ১৬৯ রান। ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নামা কার্তিক ৩৪ মিনিট ক্রিজে থেকে ২৭ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৫৫ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন।
আভেশ খানের ৪ উইকেট শিকারের পাশাপাশি বাকি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সুবাদে ১৬.৫ ওভারে ৮৭ রানেই অল আউট হয় প্রোটিয়ারা। ফলে ২-০ তে পিছিয়ে পড়েও এখন শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ের আশা দেখছে ভারত।
ব্যাট হাতে ঝড় তোলা কার্তিক হন ম্যাচ সেরা। তাকে নিয়ে চলছে প্রশংসার ফুলঝুরি। সাবেক সাউথ আফ্রিকান পেসার ডেল স্টেইন তো বলেই দিলেন, আসন্ন টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের স্কোয়াডে তার নামটা নাকি প্রথম সারিতেই থাকবে।
ডিকে (দীনেশ কার্তিক) দারুণ ফর্মে আছে। ম্যাচের পরিস্থিতি ভালোভাবে পড়তে পারে। সে বুঝতে পারে কোন বোলার কখন কি করতে পারে। ব্যাটিংয়ে তার স্কিল সত্যি ভালো। সে বুঝতে পারে কোন বোলার কীভাবে বল করবে তার রান আপের আগেই। প্রথম বল থেকেই বোলারদের উপর চাপ সৃষ্টি করে।
যতবার সুযোগ পেয়েছে, ডিকে ততবার প্রমাণ করেছে সে একজন ক্লাস খেলোয়াড়। যদি বিশ্বকাপ জিততে চান এমন একজনকে দলে নিতে হবে যে ফর্মে আছে। বিশ্বকাপে তাকে নিতে হবে। ডিকের আসলেই গুণ আছে। ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে ডিকের নামটা প্রথম সারিতেই থাকবে।








