ঠোঁটকাটা হিসেবে ভারতীয় তারকা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের খ্যাতি বিশ্বজুড়ে! বহুবার তার বিরূপ মন্তব্য হয়েছে ভারতের জাতীয় ইস্যু! তবে এখন তিনি ভারতের সংসদ সদস্য। যা ইচ্ছে মন্তব্য করা কি তার এখন শোভনীয়! এ নিয়ে নিজের দল বিজেপির মধ্যেও নাকি হয়েছে মন কষাকষি!
এরমধ্যেই আবারও এক বেফাঁস মন্তব্য করলেন এই নায়িকা ও সংসদ সদস্য! মহাত্মা গান্ধী ও লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে নতুন বিতর্ক উস্কে দিলেন তিনি। অভিনেত্রী একটি পোস্টে শাস্ত্রীর ১২০তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
যেখানে ক’দিন আগেই কংগ্রেস দাবি করেছে, জাতির জনক হিসেবে মহাত্মা গান্ধীর মর্যাদা হ্রাস পেয়েছে। এই দাবির পাল্টা হিসেবে নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে পোস্ট করে কঙ্গনা রানাওয়াত লিখেছেন, ‘দেশের কোনো পিতা হয় না, লাল (সন্তান) হয়, ধন্য এই ভারতমাতার সন্তানরা।’
অন্য একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে কঙ্গনা ভারতে গান্ধীর স্বচ্ছতার উত্তরাধিকার বহন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। এর ফলে কংগ্রেস পার্টির তরফ থেকে একাধিক আক্রমণাত্মক পোস্ট এসেছে কঙ্গনা রানাওয়াতের বিরুদ্ধে। অনেকেই তার মন্তব্যকে অশ্লীল এবং নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেছেন।
কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাতে এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকীতে তাকে অশ্লীল কটাক্ষ করেছেন। গডসে উপাসকরা বাপু এবং শাস্ত্রীজির মধ্যে পার্থক্য টানেন। নরেন্দ্র মোদী কি তার দলের নতুন গডসে ভক্তকে আন্তরিকভাবে ক্ষমা করবেন? জাতির পিতা আছেন, পুত্র আছেন, শহীদ আছেন। সবারই সম্মান প্রাপ্য।’
পাঞ্জাবের বর্ষীয়ান বিজেপি নেত্রী মনোরঞ্জন কালিয়াও গান্ধী জয়ন্তী নিয়ে কঙ্গনার মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ‘রাজনীতি কঙ্গনার ক্ষেত্র নয়।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করে তিনি বলেন, ‘গান্ধীজির ১৫৫ তম জন্মবার্ষিকীতে কঙ্গনা রানাওয়াতের করা মন্তব্যের নিন্দা করছি। স্বল্প রাজনৈতিক জীবনে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন তিনি। রাজনীতি তার জন্য নয়। রাজনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কথা বলার আগে ভাবতে হবে তার বিতর্কিত মন্তব্য দলের জন্য অশান্তি ডেকে আনছে।’
এরআগেও বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন কঙ্গনা। যদিও তখন জানান, তার মন্তব্য বিজেপির আদর্শকে প্রতিফলিত করে না। সেগুলো তার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত।








