বলিউডের ঠোঁটকাটা অভিনেত্রী বলা হয় কঙ্গনাকে রানাউতকে। যিনি বলিউডে স্বজনপ্রীতিসহ নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে বছর জুড়ে বিভিন্ন মন্তব্য করে সরব থাকেন। সেই কঙ্গনা এবার ভারতের লোকসভা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এমন খবর হয়তো অনেকেই আগে জেনে গেছেন।
১ জুন কঙ্গনা রানাউতের নির্বাচনী এলাকায় লোকসভা কেন্দ্রে ভোট। তিনি হিমাচল প্রদেশের মান্ডি লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন। নির্বাচনে প্রচারণায় তাকে হিমাচলের দুর্গম এলাকা চষে বেড়াতে বেশ কষ্ট সইতে হচ্ছে। এ কারণে অভিনয় করার চেয়ে নির্বাচন করাটা কঠিন মনে হচ্ছে কঙ্গনার কাছে।
নির্বাচনে নাম ঘোষণার পর থেকেই গত দেড়মাস ধরে হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন জেলা ঘুরছেন ‘কৃষ ৩’ ছবির এই নায়িকা। এতে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার পথ পাড়িয়ে দিয়েছেন। ভোটে দাঁড়ানো যে খুব সহজ ব্যাপার নয়, সে কথা নিজেই স্বীকার করে নিলেন কঙ্গনা। বললেন, ‘‘ভোটের থেকে সিনেমা অনেক সহজ কাজ। সিনেমা বানানো এই সংগ্রামের কাছে নেহাত বালখিল্য কাজ।’’
এ কারণে ভোটে জিতলে অভিনয় ছেড়ে দেবেন, এমনটাই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারেও কঙ্গনা বলেন, আমার হাতে কিছু প্রজেক্ট রয়েছে। তাছাড়া কিছু দায়িত্বও রয়েছে। সেগুলি পূরণ করার পর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে দেব।
কঙ্গনা নিজের ইন্সটাগ্রাম স্টোরিতে প্রচারের ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, ‘‘প্রায় ৬টা জনসভা। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক। অত্যন্ত খারাপ গ্রামীণ পাহাড়ি রাস্তা। এক দিনে ৪৫০ কিমি পথ হাঁটা, এমনকি রাতেও চলেছে সেই যাত্রা। এমনকি ঠিকমতো খাওয়াদাওয়াও হচ্ছে না। রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে গাড়িতে বসে ভাবছি, সিনেমা বানানো নিয়ে ফিল্মি লড়াই এই যুদ্ধের কাছে খানিকটা রসিকতার মতো।’’
রাজনীতিতে একেবারে নবাগতা ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন মুম্বাই’ ছবির নায়িকা কঙ্গনা। তবে প্রচারে নাকি তিনি ভালোই সাড়া পাচ্ছেন। এ কারণে নিজের জয়ের ব্যাপারেও নিশ্চিত তিনি। তাই সম্প্রতি বলেছেন, জিতলে অভিনয় ছেড়ে রাজনীতিতেই মনোনিবেশ করবেন।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার ও টিভি নাইন বাংলার খবর থেকে এসব তথ্য জানা যায়। আরও জানা যায়, কঙ্গনা ভোটের কাজটি অত্যন্ত সিরিয়াসলি নিয়েছেন।
তিনি তার হলফনামায় জানিয়েছেন, তার ৯১ কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২৮.৭ কোটি টাকা, অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৬২.৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে হিমাচল প্রদেশের মানালিতে তার একটি বাংলো রয়েছে, যার দাম ১৫ কোটি টাকা। এছাড়া মুম্বইয়ে তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে। ৬.৭ কেজির সোনার গহনা রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৫ কোটি টাকা। তার উপরে ১৭ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে।








