বঙ্গবন্ধু কাপ ২০২৪ আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্ট দেখতে বাংলাদেশে এসেছেন এশিয়ান কাবাডি ফেডারেশনের মহাসচিব মুহাম্মদ সারওয়ার রানা। আসরের আয়োজন এবং বাংলাদেশ দলের অব্যাহত সাফল্য দেখে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন পাকিস্তান জাতীয় কাবাডি দলের সাবেক অধিনায়ক। বলেছেন, বিশ্ব কাবাডিতে অনেকদূর এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
১৯৯৩ সালে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেয়া সারওয়ার মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে এসে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ অনেক বছর ধরেই এশিয়ান গেমসে পদক জিততে পারছে না। এমনকি সাউথ এশিয়ান গেমসে রৌপ্য-ব্রোঞ্জ জিতলেও স্বর্ণপদক জিততে পারেনি। তাই বলে এদেশের কাবাডি পিছিয়ে যাচ্ছে, তা নয়। বরং এ মুহূর্তে বাংলাদেশ কাবাডি সঠিক পথেই হাঁটছে এবং ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। যার প্রমাণ বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের গত তিনটি আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আমার তো মনে হয় বিশ্ব কাবাডিতে অনেকদূর এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’
‘এই মেগা ইভেন্ট দেখে আমি খুব খুশি। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো এ টুর্নামেন্টটি হচ্ছে। আমি জানি কাবাডি বাংলাদেশের জাতীয় খেলা এবং এই খেলাটির প্রসার ও উন্নয়নে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ আরও অনেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন।’
একটি দেশের কাবাডির মান উন্নত করতে হলে ইচ্ছা, সুযোগ-সুবিধা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, উন্নত প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। ৪৫ বছর ধরে কাবাডির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা সারওয়ারের বাংলাদেশের কাবাডির জন্য পরামর্শ হচ্ছে, ‘কাবাডিতে সফল হতে গেলে সবচেয়ে বেশি জরুরি শারীরিকভাবে শক্তিশালী হওয়া। মাঝে মধ্যে ফিজিক ব্যাপারটা সব নিয়ম ভেঙে দেয়। আপনি আমাকে সফলভাবে ধরে ফেললেন ঠিকই, কিন্তু আমার শক্তি বেশি থাকলে সেই শৃঙ্খলা ভেঙে বের হয়ে আসা যায়।’
আসরের মানসম্পন্ন দল নিয়ে সারওয়ারের ভাষ্য, ‘এই আসরে অনেক মানসম্পন্ন দল দেখতে পাচ্ছি। তবে ২/৩টি মানসম্পন্ন দল যেমন পাকিস্তান, ভারত, ইরান আসেনি। এখন কাবাডি খেলা অনুষ্ঠিত হয় ম্যাটে। আগে হতো ক্লে-কোর্টে। ফলে এখন খেলার ধরন ভিন্ন। খেলাটা আগের চেয়েও বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন হয়ে গেছে।’
‘আমি ১৯৯৫-২০০০ পর্যন্ত ইরান জাতীয় দলকে কোচিং করিয়েছি। আমাকে ইরানের কাবাডির প্রতিষ্ঠাতা-কোচও বলতে পারেন। এখন তারা এশিয়ান গেমসে চ্যাম্পিয়ন দল। তারা এতটাই উন্নতি করেছে যে একইসঙ্গে ভারত-পাকিস্তানের মতো দলকেও হারিয়ে দিয়েছে।’
ইরান দল নিয়ে সারওয়ার বললেন, ‘ইরান একসময় অনেক পিছিয়ে থাকলেও এখন তারা অনেক উঁচুতে উঠে গেছে। তাদের পুরুষ দলের মতো নারী দলও সাফল্য পাচ্ছে। অথচ তারা হিজাব পরে খেলে! আমি ইরান দলের কোচ থাকাকালীন তাদের অনুপ্রাণিত করতাম এই বলে, তোমাদের দেশ রুস্তম-সোহরাবের মতো কালজয়ী কুস্তিগীরের দেশ। তোমরা কাবাডিও খেলতে পারবে। পরে তো তারা আমার নিজের দেশ পাকিস্তানকেই হারিয়ে দিল!’







