জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধা পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করে স্মরণসভা ও সম্মাননা অনুষ্ঠান ‘ভয় দেখাতে পারেনি জীবন’।
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)। উপস্থিত ছিলেন একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
সমবেত যন্ত্রসংগীতে ‘ধনধান্য পুষ্পভরা’ ও ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং প্রদর্শিত হয় তথ্যচিত্র ‘মৃত্যুঞ্জয়ীদের চরণ চুমি’।
আলোচনা পর্বে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, “১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট একটি ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাজিত করার মাধ্যমে ইতিহাসের একটি অনিবার্য ঘটনা ঘটেছে। দেশ চায় স্বাধীনতা, জনগণ চায় বিপ্লবী পরিবর্তন, মানুষ চায় গণতান্ত্রিক সমাজ। আমরা চেয়েছিলাম এই দেশ হবে জনতার দেশ।”
তিনি আরও বলেন, “কেবল ভোটের অধিকার ও ন্যায়বিচার চাইতে গিয়ে বহু মানুষকে গুম, খুন এবং আয়নাঘরে বন্দী রাখা হয়েছে। দীর্ঘ ১৮ বছরের পরিণতিতে কোমলমতি ছাত্ররা জীবন উৎসর্গের সংকল্প নিয়ে বিজয় অর্জন করেছে।”
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণ ছাত্রদের ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। গণতন্ত্রকামী মানুষকে কখনোই দমন করা যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না। আমরা গণতন্ত্র, মানবিক মূল্যবোধ, মুক্ত সংস্কৃতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ চাই।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি শোষণমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে ও অধিকার আদায়ের জন্য সোচ্চার হতে পারবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আর কোনো পরিবার যেন এভাবে প্রিয়জন হারানোর বেদনার মুখোমুখি না হয়।
অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ, শাহরিয়ার খান আনাস, ফারহান ফাইয়াজ, নাঈমা সুলতানা, নাফিসা হোসেন মারওয়া এবং মাহমুদুর রহমান সৈকতের পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি আহত জুলাইযোদ্ধা মো. সিয়াম উদ্দিন, নুপুর চৌধুরী, মো. আশরাফুল ফাহিম ও মো. ইমাম হাসানকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুভূতি প্রকাশ করেন শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহীদুল আলম ভূঁইয়া এবং জুলাইযোদ্ধা মোর্শেদ আলম ও নুপুর চৌধুরী।
স্মরণসভার পর অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন ইথুন বাবু অ্যান্ড ফ্রেন্ডস, মনির খান, পিয়াল হাসান ও ইউসুফ আহমেদ খান। আবৃত্তি করেন এনামুল হক জুয়েল, সীমা ইসলাম, ইকবাল আহমেদ, ফারজানা এলি, টিটো মুনসী ও ফারিন তামান্না। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কণ্ঠশিল্পীদের সমবেত সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে।







