গুলশানের লেকশোর হোটেল থেকে ‘ফেয়ার ফাইন্যান্স বাংলাদেশ’ এর দ্বিতীয় অধ্যায় এর যাত্রা শুরু হয়েছে।
বুধবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০ থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত গুলশানের লেকশোর হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফেয়ার ফাইন্যান্স বাংলাদেশের ‘ইভেন্ট লঞ্চিং প্রোগ্রাম’।
অনুষ্ঠানে বক্তারা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে দেশের ব্যাংকিং খাত ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে টেকসই অর্থ ব্যবস্থা এবং দায়িত্বশীল বিনিয়োগের গুরুত্ব ও এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরি নিয়ে আলোচনা করেন।
অক্সফাম ইন বাংলাদেশ, পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান) ও গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন যৌথভাবে ফেয়ার ফাইন্যান্স বাংলাদেশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই তিন প্রতিষ্ঠানের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে ‘ফেয়ার ফাইন্যান্স বাংলাদেশ ফেজ-২’ ও ‘ফেয়ার ফাইন্যান্স এশিয়া’-এর উদ্যোগে একটি নতুন জোট গঠন হয়েছে।
অনুষ্ঠানের ফেয়ার ফাইন্যান্স বাংলাদেশ প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন ফেয়ার ফাইন্যান্সের বাংলাদেশীয় প্রতিনিধি অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের সাদমান সাকিব আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে টেকসই অর্থায়নকে উৎসাহিত করতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীল নীতি ও কার্যপ্রণালী গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারি সংস্থা ও নিয়ন্ত্রকদের সাথে সমন্বিতভাবে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেয়া দরকার।
তিনি বলেন, এ উদ্দেশ্য নিয়েই ফেয়ার ফাইন্যান্স বাংলাদেশ সচেতন সমাজকে ক্ষমতায়িত করতে এবং অর্থনৈতিক খাতজুড়ে বিভিন্ন অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে জবাবদিহি বৃদ্ধি, সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি একীভূত করা এবং টেকসই অর্থায়নের কার্যপ্রণালীতে জেন্ডার সমতা সংযুক্ত করতে কাজ করবে। এই কার্যপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা অন্তর্বর্তী সরকারের শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জলবায়ু বিষয়ক আর্থিক খাতকে এগিয়ে নিতে নানা পরামর্শ এবং জলবায়ু সংশ্লিষ্ট সংজ্ঞায়ন, পরিধি নির্ণয় এবং এর মূল্যায়নের গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, জলবায়ু সংশ্লিষ্ট সংজ্ঞায়ন, বিনিয়োগের পরিধি নির্ণয় এবং এর সঠিক পরিবেশগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে এটি আমাদের জন্যে বিশেষ একটি সুযোগ। এগুলোর পাশাপাশি বাজার প্রস্তুত করতে হবে আমাদের এই জলবায়ু সচেতন অর্থব্যবস্থার জন্য, কারন ওই মার্কেটে আমার যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সে কতখানি অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাচ্ছে, তার শেয়ার কতখানি হবে সেটাও একটি বড় মূল্যায়নের বিষয় এখানে।
সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন জলবায়ু সম্পর্কীত সংজ্ঞায়ন গুলোর পূর্ব অপব্যবহার তুলে ধরে বলেন, সমস্ত গ্রীন ফিন্যান্সিং কিন্তু সাস্টেইন্যাবল ফাইন্যান্সিং আবার সমস্ত সাস্টেইন্যাবল ফাইন্যান্সিং কিন্তু গ্রীন ফাইন্যান্সিং না। সবাইকে নিয়ে শক্তিশালীভাবে এই সংজ্ঞায়ন গুলো ঠিক করলে, জলবায়ু ফান্ড বাংলাদেশ অনেক পাবে, যেটা বাংলাদেশের অনেক দরকার।
উপস্থিত বক্তাদের মধ্যে চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকির হোসন খান জলবায়ু ন্যায্যতা প্রসঙ্গে বলেন, আরএমজি সেক্টরে যে এক্সপোর্ট হয় সে কনজিউমাররা ১০ ডলার দিয়ে একটা শার্ট কিনতে পারলে ১ ডলার কেন সে ওই দেশকে দিতে পারবে না যেখানে এই শার্ট তৈরি করতে গিয়ে ক্লাইমেট ক্রাইসিস তৈরি হচ্ছে। ফেয়ার ফাইন্যান্সের এই জায়গায় এসে আমাদের নতুন করে চিন্তা করার সুযোগ এসেছে, এই ট্যাক্সিংটা সরকার করলে তখন সেটা আবার আমাদের প্রডিউসারদের উপর চাপাবে, তাই এটা যে দেশ ভুক্তভুগী সে দেশকে কোয়ার্টারলি প্রদান করবে, কার্বন তারা শুধু তাদের ওই শার্টের টাকা দিচ্ছে, তারা ওই শার্ট তৈরি করতে গিয়ে যে আমার শীতলক্ষ্যা, মেঘনা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মাটি দূষণ হচ্ছে এগুলোর জন্যে করছে না।
এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফেয়ার ফাইন্যান্স বাংলাদেশ ফেজ-২ বা দ্বিতীয় অধ্যায়ের পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে। নতুন এই অধ্যায়ের সূচনায় বাংলাদেশে আর্থিক খাতে বৃহত্তর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দায়িত্বশীল অর্থায়নের ভিত্তি স্থাপন করবে।
অনুষ্ঠানটি ন্যায়সংগত অর্থায়ন বিষয়ক আলোচনার পাশাপাশি আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারক, এ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের সংস্থাগুলোর সঙ্গে নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। এতে জলবায়ু অর্থায়ন, টেকসই অর্থায়ন, অর্থনৈতিক নীতিমালা ও নাগরিক সমাজের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিসহ মোট ৩০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সবাই ফেয়ার ফিন্যান্স বাংলাদেশের উদ্যোগকে সমর্থন ও কর্মপ্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন।
এছাড়া বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দায়িত্বশীল অর্থায়ন অনুশীলনগুলি উন্নীতকরণে তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, সভায় আরো বক্তৃতা রাখেন লিড এনার্জি অ্যানালিষ্ট ইন্সটিটিউট ফর এনার্জি ইকোনোমিকস এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল আলম, এনজিও ফোরাম অন এডিবি এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রায়ান হাসান, ইনফোলেডি সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড এর চিফ এক্সিকিউটভ অফিসার ড. অনন্য রায়হান, হেড অফ ক্লাইমেট জাস্টিস, অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ এর ড. মোহাম্মদ ইমরান হাসান, বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এক্সটার্ণার ডেট এর মেম্বার সেক্রেটারি হাসান মেহেদি, টিআইবি-র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. মাহফুজুল হক সহ আরো অনেকে।









