আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশন মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) জানিয়েছে যে, তালেবান পুনরায় আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর অন্তত ২৫৬-এর বার নির্বিচারে সাংবাদিকদের আটক করেছে। সংবাদমাধ্যমকে রক্ষায় আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
আফগানিস্তানে সাংবাদিকরা ‘প্রতিকূল পরিস্থিতিতে’ কাজ করছেন বলে দেশটিতে জাতিসংঘের মিশন এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। তারা প্রায়ই কী নিয়ে রিপোর্ট করতে পারবেন, কী নিয়ে পারবেন না সেসংক্রান্ত অস্বচ্ছ নীতির শিকার হন এবং সমালোচনামূলক কিছু প্রকাশিত হলে হুমকির এবং নির্বিচারে আটকের ঝুঁকিতে থাকেন, বলেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বিশেষ প্রতিনিধি রোজা ওতুনবায়েভা।
তিনি আরও বলেন, আমরা সাংবাদিক এবং সংবাদকর্মীদের দায়িত্ব পালনকালে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং গণমাধ্যমে নারীর কাজ করার গুরুত্বকে সম্পূর্ণভাবে স্বীকৃতি দিতে প্রকৃত কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নারীরা গণমাধ্যমে কাজ করছে। তবে তাকে কিছু ‘ধার্মিক নৈতিক নিয়ম’ মানতে হচ্ছে। এসবের মধ্যে রয়েছে তাদের মুখ ঢেকে রাখা এবং পুরুষদের থেকে আলাদা হয়ে কাজ করা।
মন্ত্রণালয় জাতিসংঘের প্রতিবেদনকে ‘বাস্তবতা বিবর্জিত’ বলে উল্লেখ করেছে এবং জানিয়েছে যে, নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কাজ করছে। তবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি আফগান তথ্যমন্ত্রণালয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত আটকের সংখ্যা বাড়িয়ে বলা বলেও দাবি করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পর ২০২১ সালে তালেবান দেশটির ক্ষমতা দখল করে নেয়। তারা তাদের শাসনে ইসলামি আইনের কঠোর ব্যাখ্যা প্রয়োগের অঙ্গীকার করেছিল। এখনও অবধি বিশ্বের কোনো দেশে তালেবান কর্তৃপক্ষকে স্বীকৃতি দেয়নি।
সূত্র: ডয়েচে ভেলে (ডিডব্লিউ)








