এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ভারতের তুমুল জনপ্রিয় কমেডিয়ান জনি লিভার-এর কন্যা জেমি লিভার সম্প্রতি একটি ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, যা শোবিজ দুনিয়ার অন্ধকার বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। এক আন্তর্জাতিক সিনেমার অডিশনের নামে তাকে ভিডিও কলে স্ট্রিপ করতে বলা হয়! পুরো ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন জেমি নিজেই।
জুম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেমি লিভার জানান, তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি নিজেই নিজের ম্যানেজার ছিলেন এবং সেই সময় অনেক কাস্টিং এজেন্টের কাছে তার মোবাইল নম্বর ছিল। একদিন তাকে ফোন করে বলা হয়, একজন আন্তর্জাতিক পরিচালক একটি সাহসী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অডিশন নিতে চান। এত বড় সুযোগ পেয়ে জেমি রাজি হয়ে যান।

পরবর্তীতে তাকে জানানো হয়, অডিশনটি ভিডিও কলে হবে, এবং কোনো স্ক্রিপ্ট দেওয়া হবে না— কারণ ‘ইম্প্রোভাইজেশন’ই মূল বিষয়। অডিশনের সময় জেমির ভিডিও অন থাকলেও, অপরপক্ষ জানায় তারা ট্রানজিটে থাকায় ভিডিও চালু করতে পারছে না। সেখান থেকেই শুরু হয় অস্বস্তির মুহূর্ত!
জেমিকে বলা হয়, চরিত্রটি ‘বোল্ড’ এবং এতে কমেডির কিছু নেই। তাকে কল্পনা করতে বলা হয়, যেন তার সামনে একজন ৫০ বছর বয়সী পুরুষ রয়েছেন এবং তাকে আকর্ষণ করতে হবে— এক পর্যায়ে অন্তরঙ্গ দৃশ্যেও যেতে হতে পারে। এরপর সরাসরি তাকে কাপড় খুলে ফেলতে বলা হয়।
জেমি তখন স্পষ্ট জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানতেন না এবং এ ধরনের কিছু করতে একেবারেই অনিচ্ছুক। তিনি বলেন, “আমি বললাম, ‘স্ট্রিপ? আমাকে তো কেউ এটা বলেনি! আমি একদমই কমফোর্টেবল না।’ তখন তারা বলে, ‘এটা অনেক বড় সুযোগ, আপনি চাইলে করতেই পারেন।’ আমি বলি, ‘এই মুহূর্তে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতেও আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি না’, বলেই ভিডিও বন্ধ করে দিই।”

পরবর্তীতে জেমির মনে হয়, এটি হয়তো একটি বড় প্রতারণার ফাঁদ ছিল। তিনি বলেন, “আমি যদি কিছু একটা নিরীহভাবে করে ফেলতাম, তাহলে সেটা রেকর্ড করে আমাকে ব্ল্যাকমেইলও করা যেত। এটা ভাবলেও ভয় লাগে।”
জেমি আরও জানান, তিনি এতদিন ধরে শুনে এসেছেন কাস্টিং কাউচের ভয়াবহ গল্প, কিন্তু কখনো ভাবেননি তিনি নিজেও এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হবেন, বিশেষ করে জনি লিভারের মেয়ে হয়েও কেউ তাকে এমনভাবে ফাঁদে ফেলার সাহস দেখাবে! জেমির ভাষায়, “এটা মনে করলেও গা শিউরে ওঠে।”-ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস







