নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় চার দিন কারাভোগের পর সেই তথ্য গোপন রেখেই দাপ্তরিক কাজে যোগ দিয়েছেন ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী জুয়েল রানা। সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হলে বা কারাগারে আটক থাকলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গণপূর্ত বিভাগের একটি সূত্র জানায়, তার কারাভোগকালীন সময়ে অনুপস্থিতির বিষয়টিকে ছুটি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলছে, যাতে কারাগারে থাকার বিষয়টি আড়াল করা যায়।
এর আগে গত ১৫ এপ্রিল জুয়েল রানার গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগ-২-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আতিকুর রহমান বলেন, ‘তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন কি না, তা আমার জানা নেই। তবে তিনি সেসময় অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন এবং আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ পুলিশের পাঠানো একটি পরোয়ানার ভিত্তিতে কদমতলী থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
আরও জানা যায়, ওই দিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অবস্থানকালে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরবর্তীতে ১৬ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে জামিন আবেদন করলে ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় তিনি অস্থায়ী জামিন পান। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত) এর ১০/৩০ ধারায় মামলা (নম্বর: ৪০৪-২০২৫) দায়ের রয়েছে। মামলার পরবর্তী তারিখ চলতি মাসের ২৬ তারিখ।
গণপূর্ত বিভাগের সূত্র বলছে, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরদিন থেকেই তিনি স্বাভাবিকভাবে অফিস শুরু করেন।
এ বিষয়ে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আমরা বিষয়টি কিছুটা দেরিতে জেনেছি। একটি লিখিত পাওয়ার পর সেটি সংশ্লিষ্ট সাব-ডিভিশনে পাঠানো হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’
উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জানান, ‘প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ চলছে, দ্রুতই জমা দেওয়া হবে।’
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) মুহাম্মদ সারওয়ার জাহান বলেন, ‘এ বিষয়ে ওই ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সে জানিয়েছে মাঝে পহেলা বৈশাখের ছুটি থাকায় এখন চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়নি। দ্রুতই সেটা শেষ করে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন হাতে পেলেই আমরা ব্যবস্থা নেব।’
‘প্রতিবেদন হাতে পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ বলেন তিনি।
এবিষয়ে জুয়েল রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।








