গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংস ও নির্বিচার মুসলিম হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (জবিশিস)। একই সাথে ফিলিস্তিনিদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সংহতি সমাবেশ করেছে জগন্নাথের শিক্ষক নেতারা।
আজ ৭ এপ্রিল সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ব্যানারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। সমাবেশে বক্তারা গাজার সাধারণ মানুষের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানান এবং বিশ্ব নেতাদের প্রতি এই বর্বরতা বন্ধে দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।
তারা বলেন, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর বর্বর হামলায় হাজার হাজার নিরীহ শিশু, নারী ও বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। এসময় ফিলিস্তিনের পক্ষে বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা ইসরায়েল ও তার মিত্র পশ্চিমা দেশগুলোর মালিকানাধীন পণ্য বয়কটের আহ্বানও জানান।
জবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, বায়তুল আকসা আমাদের প্রথম কিবলা। মুসলিম কমিউনিটিকে এই কিবলা রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি আমরা প্রত্যেক মুসলিম দেশকে সব সেক্টরে অন্য দেশের উপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভর হওয়ার আহ্বান জানাই।
জবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র নওশীন নওয়ার জয়া বলেন, যারা বিশ্ব মানবতার কথা বলে, আজ তারা নীরব। গণহত্যার সহায়কদের পণ্য বর্জন করে আমাদের প্রতিবাদ জানাতে হবে।
জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন বলেন, ইসরায়েলের মানবতাবিরোধী অপরাধের মদদদাতাদের জন্য আল্লাহর হেদায়েত কামনা করি। আমাদের শপথ নিতে হবে, ইসরায়েল ও ইসলামের শত্রুদের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করবো। ইসরায়েলের কোনো পণ্য আমরা আর কিনবো না–এই সংকল্প নিতে হবে।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর, ছাত্রী হল প্রভোস্ট, ছাত্র সংগঠন ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিমসহ অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশ শেষে গাজায় নিহত মুসলিমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য শান্তি ও ন্যায়ের প্রত্যাশায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।







