বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান অভিনীত ‘জওয়ান’ ব্যবসায়িকভাবে একের পর এক রেকর্ড গড়ে যাচ্ছে। মাত্র চারদিনে বিশ্বব্যাপী ৫৩১ কোটি টাকার গ্রস সেল দিয়ে ভারতীয় সিনেমায় নতুন ইতিহাস লিখেছে! সিনে বিশ্লেষকরা বলছেন, বক্স অফিসে যেভাবে সিনেমাটি দাপট দেখাচ্ছে, তাতে ২ হাজার কোটিতে পৌঁছালেও বিস্মিত হবেন না!
দেশ স্বাধীনের পর কোনো হিন্দি সিনেমা একযোগে বাংলাদেশে মুক্তির ঘটনা বিরল! নিকট অতীতে এমনটা দেখা যায়নি। হিন্দি ‘জওয়ান’ একযোগে বাংলাদেশের ৪৬টির মতো সিনেমা হলে মুক্তি পাওয়াকে বিশেষ ঘটনা বলেই চিহ্নিত করছেন অনেকে।
সিনেমাটি নিয়ে বাংলাদেশি দর্শকের আগ্রহ থাকার কারণেই পরিবেশকদের এমন উদ্যোগ! ইতিহাস সৃষ্টি করা ‘জওয়ান’ বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে কেমন চলছে? এ বিষয়ে জানতেই চ্যানেল আই অনলাইনের এই প্রতিবেদক মাল্টিপ্লেক্সের মধ্যে স্টার সিনেপ্লেক্স সহ ঢাকার বাইরের বেশ কয়েকটি সিঙ্গেল স্ক্রিনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সাথে কথা বলেন।

সবার সাথে কথা বলে ‘জওয়ান’ নিয়ে যে সারমর্ম দাঁড়ালো, তা হচ্ছে- মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে ‘জওয়ান’ চলছে তুমুল দাপটের সাথেই। এমনকি অগ্রিম টিকেট পেতেও দর্শকের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অন্যদিকে সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোতে ‘জওয়ান’ এর অবস্থা করুণ! প্রথম দু’দিনের পর প্রায় সব সিঙ্গেল স্ক্রিনে রীতিমত দর্শক খরা!
স্টার সিনেপ্লেক্সের জৈষ্ঠ্য বিপণন কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, দৈনিক ‘জওয়ান’ এর ৪০টি শো চলছে সিনেপ্লেক্সে। তিনি বলেন, খুব ভালো চলছে। দৈনিক অগ্রিম টিকেট বিক্রি হচ্ছে। ঈদের সময় থেকে টানা প্রিয়তমা, সুড়ঙ্গ যেমন চলেছিল জওয়ান সেই ধারাবাহিকতা মুক্তির দিন থেকে বজায় রেখেছে। ভারতের সঙ্গে একসঙ্গে রিলিজ করা গেছে বলে এতো দর্শক চাপ বিরাজ করছে। সিনেপ্লেক্সের সব ব্রাঞ্চে ঈদের ছবিগুলোর মতো চলছে।
শুধু সিনেপ্লেক্স নয়, ব্লকবাস্টার সিনেমাসেও ‘জওয়ান’ দেখতে প্রতিদিনিই ভিড় করছেন দর্শক। নিচ্ছেন অগ্রিম টিকেট। নারায়াণগঞ্জের আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ ‘সিনেস্কোপ নারায়াণগঞ্জ’ এও অগ্রিম টিকেট বিক্রি হচ্ছে। সেখানে এই সপ্তাহের কোনো টিকেট নেই বলেও জানা গেছে। সিনেস্কোপ কর্তৃপক্ষ আগামি ১৫ তারিখ থেকে ২১ তারিখের অগ্রিম টিকেট বিক্রি করছেন।
দেশের ঐতিহ্যবাহী মধুমিতা সিনেমা হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ অনেকটাই ‘আপসেট’ হয়ে চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার শো ছাড়া জওয়ান হাউজফুল পাইনি। শনিবার ও রবিবার আরও দর্শক কমেছে। যেটা আশা করেছিলাম তেমনটা মোটেও হলো না। ঈদে ‘প্রিয়তমা’ চালিয়েছিলাম ছয় সপ্তাহ। এই ছবি যে পরিমাণ চলেছিল সেই তুলনায় ধারেকাছেও নেই ‘জওয়ান’। হলে কিন্তু দর্শক ঠিকই আসে, যদি না থাকে তাহলে প্রিয়তমা ছয় সপ্তাহ কীভাবে চললো? কিন্তু একযোগে রিলিজ করার পরেও ‘জওয়ান’ কেন চললো না এটা আমিও ঠিক বুঝতে পারছি না।
চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সিঙ্গেল স্ক্রিন সুগন্ধা সিনেমা হলে শুক্রবার ও শনিবার দর্শক বেশি থাকলেও পরদিন থেকে ‘জওয়ান’র দর্শক কমেছে উল্লেখ করে এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহাদত হোসেন বলেন, এশিয়া কাপ ক্রিকেটে উত্তেজনা এবং ওয়ার্কিং ডে শুরু হওয়ায় দর্শক কিছুটা কমেছে। দর্শকদের উপস্থিতি কম বেশি মিলিয়ে সমানসমান। আশা করছি, সামনে ছুটির দিন পেলে দর্শক বাড়বে।
যশোরের মনিহারে ‘জওয়ান’ বেশ ভালো চললেও ময়মনসিংহের ছায়াবাণী, রংপুরের শাপলা, সিলেটের নন্দিতা হলগুলোতেও সেভাবে সুবিধা করতে পারছে না। সংশ্লিষ্টরা জানান, জওয়ানের চেয়ে প্রিয়তমা কিংবা সুড়ঙ্গ’র দর্শক বেশি ছিল।
তাদের কথা, ঢাকার বাইরে সবসময় দেশের তারকা শিল্পীদের সিনেমার চাহিদা বেশি। যদি মানসম্মত আধুনিক দেশীয় সিনেমা নির্মাণ করা হয় তবে বলিউড হলিউডের ছবিগুলো থেকে দর্শক দেখবে।
সিনেমা হল মালিক সমিতির উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস বলেন, সিঙ্গেল স্ক্রিন বা পুরাতন হলগুলোতে জওয়ানের মতো পাঠানও একই অবস্থা ছিল। আসলে সিঙ্গেল স্ক্রিনে সিট থাকে ৮০০ থেকে হাজারের কাছাকাছি। যারা সিনেমা দেখতে যায় তারা হিন্দি ভাষা সেভাবে বোঝে না। কিন্তু দেশের ছবি যদি ভালো হয় তবে ওই ৮০০ থেকে হাজার সিটের হল কিন্তু ভর্তি থাকে। গত ঈদে শাকিব খানের ‘প্রিয়তমা’র ক্ষেত্রে তাই হয়েছিল।

এসময় তিনি আরও বলেন, সিনেপ্লেক্সে সিট থাকে ২৫০ থেকে ৩০০-এর মধ্যে। শহরে শাহরুখ খানের নতুন সিনেমা এলে এই আসনগুলো পূরণ হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একটি সিঙ্গেল স্ক্রিন হাউজফুল হতে গেলে তাহলে এবার হিসেব করেন সিনেপ্লেক্সে কয়টি শো হাউজফুল হতে হবে? তবে আমার মনে হয় সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোতে যে মেশিন সাউন্ড সিস্টেম আছে সেটা জওয়ানের মতো ছবি টানতে পারে না। আমাদের লোকাল ছবি যদি ভালো হয় কোনো দেশের ছবিই এখানে টক্কর দিয়ে পারবে না।
বৃহস্পতিবার মুক্তির পর থেকেই রেকর্ড বন্যায় ভাসছে ‘জওয়ান’। মুক্তির প্রথম দিনেই বক্স অফিসে ৭৫ কোটি রুপি আয় করে রেকর্ড শুরু। যা এর আগে অন্য যে কোনো হিন্দি ছবির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আয়! মুক্তির মাত্র তিন দিনেই বক্স অফিসে ২০০ কোটি রুপি আয়ের মাইলফলক স্পর্শ করে সিনেমাটি!
এতো স্বল্প সময়ে এরআগে কোনো হিন্দি সিনেমার ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। শাহরুখের ‘জওয়ান’ এর রেকর্ডের ফিরিস্তি এখানেই শেষ নয়, রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ছিলো ভারতে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। আর এই দিনেও নতুন রেকর্ড গড়লেন শাহরুখ! এদিন ‘জওয়ান’ এর আয় ছাড়িয়ে যায় ৮১ কোটি টাকার বেশী! মুক্তির প্রথম দিনের চেয়ে এই আয় বেশি। বলিউডের ইতিহাসে এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ আয়।







