৩৩ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মণি রত্নম কিংবা আশুতোষ গুয়ারিকরের মতো খ্যাতনামা পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাননি বলিউডের বাদশা শাহরুখ খান। কিন্তু অবশেষে সেই স্বীকৃতি এলো অ্যাটলি কুমারের ‘জওয়ান’-এর মাধ্যমে—এই ছবির জন্যই প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করতে যাচ্ছেন তিনি।
ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক গর্বের মুহূর্ত তৈরি করলেন শাহরুখ খান। এই সাফল্যে পরিচালক অ্যাটলি গভীর আবেগ প্রকাশ করেছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় শাহরুখকে উদ্দেশ্য করে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন।
অ্যাটলি লিখেছেন,“শাহরুখ স্যার, নিজেকে ধন্য মনে করছি। আপনি ‘জওয়ান’ সিনেমার জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন— এটা আমার জীবনের এক আবেগঘন ও অনুপ্রেরণাদায়ক মুহূর্ত।”
এরপর এই নির্মাতা লিখেন,“আমার ওপর আপনার ভরসা রাখা এবং আমাকে এই ছবি করার সুযোগ দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এটা ছিল আমার প্রথম প্রেমপত্র আপনার জন্য— আরও অনেক আসবে। গৌরী খান ম্যাম ও রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টকে ধন্যবাদ।”
অ্যাটলি নিজের পোস্টে জানিয়েছেন যে ‘জওয়ান’ শুধুমাত্র তার হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিষেক নয়, বরং এটি তার হৃদয়ের খুব কাছের একটি প্রজেক্ট ছিল, যা বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ইন্ডাস্ট্রিকে একত্র করেছে। শাহরুখ খানকে তার প্রথম জাতীয় পুরস্কার এনে দেওয়াকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন বলে মানছেন।
নিজেকে শাহরুখের ফ্যান দাবি করে এই নির্মাতা আরো বলেন, “শাহরুখ স্যার, আপনার কাছাকাছি থাকতে পারাটাই এক বিশাল আশীর্বাদ। একজন ফ্যানবয় হিসেবে আপনার সঙ্গে কাজ করতে পেরে, আপনার জন্য একটি সিনেমা বানাতে পেরে, আপনাকে ম্যাস অ্যাপিলের ভঙ্গিতে পর্দায় তুলে ধরতে পেরে নিজেকে সত্যিই ঈশ্বরের আশীর্বাদপ্রাপ্ত মনে করছি। শেষ পর্যন্ত ঈশ্বর আমাদের জীবনের এই শ্রেষ্ঠ মুহূর্তটি উপহার দিয়েছেন। এর চেয়ে বেশি কিছু চাই না। এটাই যথেষ্ট। আমি আপনার শ্রেষ্ঠ ফ্যানবয়, স্যার।”
১৯৯২ সালে ‘দিওয়ানা’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন শাহরুখ খান। তারপর থেকে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’, ‘স্বদেশ’, ‘চক দে! ইন্ডিয়া’, ‘মাই নেম ইজ খান’-এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় ও সমালোচকদের প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করলেও, এতদিন জাতীয় পুরস্কার তার ভাগ্যে জুটেনি!
স্বদেশ (২০০৪)-এ নাসা ইঞ্জিনিয়ার মোহন ভাগবতের ভূমিকায় তাকে দেখা গিয়েছিল, যেখানে তিনি নিজের দেশের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ খুঁজে পান। অনেকে মনে করেছিলেন, এই সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাবেন শাহরুখ! সিনেমাটি তখন প্রশংসিত হলেও সে বছর ‘হাম তুম’ এর জন্য ‘সেরা অভিনেতা’র পুরস্কারটি পান সাইফ আলী খান।
এরপর সম্ভাবনা তৈরী তয় ‘চাক দে! ইন্ডিয়া’ (২০০৭)-এর জন্য! খেলোয়াড়দের ত্যাগ ও লড়াইয়ের গল্পে, এক বিতর্কিত হকি কোচ হিসেবে শাহরুখের সংযত ও তীব্র অভিব্যক্তির অভিনয় সবার মনে দাগ কাটে। কিন্তু সেবারও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার থাকে অধরা! ওই বছরে সিনেমাটি ‘সেরা জনপ্রিয় চলচ্চিত্র’ বিভাগে পুরস্কার পেলেও, ‘ধুম ২’ এর জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান হৃতিক রোশন।
এর তিন বছর পর ‘মাই নেম ইজ খান’ (২০১০)-এর জন্য আরো একবার শাহরুখের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন চরিত্র রিজওয়ান খানের ভূমিকায় অভিনয় করেন, যিনি ৯/১১-পরবর্তী আমেরিকায় নিজের জায়গা খুঁজে ফেরেন। এই সিনেমায় তাঁর সংবেদনশীল অভিনয় বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়, তবে সে বছর ‘পা’ এর জন্য জাতীয় পুরস্কার পান অমিতাভ বচ্চন।
অবশেষে শাহরুখের হাতে উঠছে প্রাপ্য সম্মান! ৭১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘জওয়ান’-এর জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তির আফসোস ঘুচতে যাচ্ছে! –টাইমস অব ইন্ডিয়া








