ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) দুই শিক্ষক লায়েকা বশীর ও ড. এ এস এম সায়েম মোহসীনকে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার ২১ জানুয়ারি দুপুর ১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা মারাত্মক সংকটে রয়েছে। স্বাধীন মত প্রকাশের কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি উগ্র গোষ্ঠী ভিন্নমত দমনের চেষ্টা করছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ইউএপির বেসিক সায়েন্সেস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীর এবং একই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক, সহযোগী অধ্যাপক ড. সায়েম মোহসীনকে কোনো যথাযথ তদন্ত ও নিয়ম অনুসরণ ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও নীতিবিরুদ্ধ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, লায়েকা বশীরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিত্তিহীন অভিযোগের ওপর নির্ভর করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এমনকি তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়। অভিযোগগুলো ছিল পরিচয়বিহীন ও যাচাইযোগ্য নয়, যা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। অন্যদিকে ড. সায়েম মোহসীনের ক্ষেত্রে কোনো তদন্ত কমিটিই গঠন করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা এই দুই শিক্ষক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সামাজিক দায়িত্বে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। সে কারণেই তাঁদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকার পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নীরবতাকেও তীব্র সমালোচনা করেন বক্তারা। তাঁদের অভিযোগ, একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের অধিকার রক্ষায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—অনতিবিলম্বে লায়েকা বশীর ও ড. সায়েম মোহসীনকে চাকরিতে পুনর্বহাল, যথাযথ তদন্ত ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতে নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা সুরক্ষিত রাখা।
বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চিন্তার স্বাধীনতা ও একাডেমিক পরিবেশ রক্ষা করতে এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে।








