রংপুরের দুর্গে জাতীয় পার্টির ভরাডুবি হয়েছে। দলটির দীর্ঘ ৩৮ বছরের রাজত্বের অবসান হলো। দ্বাদশ জাতীয় সংসদে মাত্র একটি আসন পেয়েছিল জাতীয় পাটি। ত্রয়োদশে জয়ের খাতায় শূণ্যে নাম লিখিয়েছে দলটি। এমনকি দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরেরও ঘটেছে শোচনীয় পরাজয়। নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেনি কোনো প্রার্থী।
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে হতাশা বিরাজ করছে দলটির নেতাকর্মীদের মাঝে।
জানা যায়, জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত রংপুর। এক সময় দলটির প্রার্থীরা রংপুর বিভাগের প্রায় সবকটি আসনে জয়লাভ করতো। কালের বিবর্তনে জাতীয় পার্টির আসন সংখ্যা কমতে থাকে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ৬টি আসনের মধ্যে দলটি রংপুর-১ ও রংপুর-৩ আসনটি ধরে রাখে। রংপুর জেলার প্রাণকেন্দ্র রংপুর-৩ আসনে দলের চেয়ারম্যানরা নির্বাচন করে থাকেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদে শুধুমাত্র রংপুর-৩ সদর আসনে জয়ী হন দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের। গণঅভ্যূত্থানের পর থেকে আওয়ামী লীগের দোসর তকমা পেয়ে রাজনীতিতে কোনঠাসা হয়ে পড়ে জাতীয় পার্টি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিশেষ করে এনসিপি’র ছাত্র সংগঠন জাতীয় পার্টির দলীয় কার্যক্রমে বাঁধা দিতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে নিয়ে বিদ্রুপ করতে থাকে। শুধু তাই নয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ভোট না দেয়ার জন্য ক্যাম্পেইন করতে থাকে। সংকটের মাঝেও এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি অংশগ্রহণ করে রংপুরের ৬টি আসনে প্রার্থী দেয়। কিন্তু মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে রংপুর-১ আসনে দলের প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী ভোটের মাঠ থেকে ছিটকে পড়েন।
দলের দুর্গ রংপুর-৩ আসন থেকে এবারও চেয়ারম্যান জিএম কাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে বেসরকারী ফলাফলে শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে জাতীয় পার্টির।
এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান বেলাল বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হয়েছেন বিএনপি’র সামসুজ্জামান সামু।
জাতীয় পার্টির শোচনীয় পরাজয় নিয়ে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ একাধিক নেতার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।
এনসিপি’র ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি মহানগরের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি বলেন, রংপুরবাসীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি তারা ফ্যাসিস্টের দোসর জাতীয় পার্টিকে বয়কট করেছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় পার্টির কবর রচনা হয়েছে।








