বলিউড বাদশা শাহরুখ খান। সারা পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তার ভক্তকূল। নানা সময়ে শাহরুখকে নিয়ে ভক্তদের নানান অ্যাডভেঞ্চারের গল্প সংবাদ মাধ্যমে দেখা যায়! বিশেষ করে তার দেখা পেতে শত শত মাইল দূর থেকে মান্নাতের সামনে দিনের পর দিন অপেক্ষারত ভক্তদের খবরতো ক’দিন পর পরই উঠে আসে!
তেমনি এক বাংলাদেশি শাহরুখ ভক্তের কথা জানা গেল! যিনি সম্প্রতি স্বপ্নের নায়কের সাথে গিয়ে দেখা করে এসেছেন! যদিও তাকে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। কারণ চলতি মাসের ২ তারিখে ছিলো শাহরুখের জন্মদিন। এদিন ভক্তদের আয়োজনে উপস্থিত হয়েছিলেন শাহরুখ! পরিকল্পনা করে যেখানে আগেই গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন বাংলাদেশি শাহরুখ ভক্ত!
শাহরুখ ভক্ত এই বাংলাদেশি যুবকের নাম তামজিদ ইসলাম জারির। যিনি আবার ‘এসআরকে বাংলাদেশ সিএফসি’- এর সাংগঠনিক সম্পাদক। সম্প্রতি শাহরুখের সান্নিধ্য পাওয়া এই তরুণ মুম্বাই থেকে ফিরে এসে চ্যানেল আই অনলাইনকে শোনালেন তার অভিজ্ঞতার গল্প!
জারির বলেন, একথা বলা বাহুল্য যে শাহরুখ খান আমার স্বপ্নের নায়ক। তার সান্নিধ্য পাওয়া এক জনমের সৌভাগ্য! আর এই স্বপ্ন পূরণে আমাকে সহায়তা করেছেন আমাদের ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি কাজী শাহাদত এবং সহসভাপতি সুমাইয়া শরীফ অপি। প্রথমেই তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
জারির বলেন,“আমি এপ্রিল/মে ২০২৪-এ এই অনুষ্ঠানের জন্য নিশ্চিত হয়েছিলাম। তাই আমি জুন মাসে আমার ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদন করি এবং অবশেষে জুলাই ২০২৪-এ আমার ভিসা পেয়ে যাই। আমি এই যাত্রা নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলাম। ৩১ অক্টোবর আমি মুম্বাইয়ের উদ্দেশে উড়াল দিই। মুম্বাই পৌঁছানোর পর আমি সোজা মান্নাতে চলে যাই তার সৌন্দর্য দেখতে। অবশেষে ‘এসআরকে দিবস’ (২ নভেম্বর) অনুষ্ঠানে যখন আমি পাস পেলাম, আমি সত্যিই খুশি হলাম। যখন আমি অডিটোরিয়ামে ঢুকলাম এবং পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ডে ‘কিসকা হ্যায় হ্যায় তুমকো ইন্তেজার মেইন হু নাহ’ শুনলাম, আমি কাঁদতে শুরু করলাম।”
শাহরুখের সাক্ষাৎ পাওয়ার মুহূর্তটি নিয়ে বাংলাদেশি এই তরুণ বলেন,“আবার যখন আমি এসআরকেকে মঞ্চে প্রবেশ করতে দেখলাম, আমি আবার আবেগে ভেসে গেলাম। আমি অনুষ্ঠানটির প্রতিটি সেকেন্ড এবং শাহরুখ স্যারের বক্তৃতা উপভোগ করেছি। অবশেষে সেই মুহূর্ত এল যখন আমাকে শাহরুখ স্যারের সাথে একটি গ্রুপ ফটো তোলার জন্য মঞ্চে ডাকা হল, এবং তখন আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে এটা ঘটছে। তার পাশে বসার আগে আমি তার হাতে আমার হাত বাড়িয়ে দিলাম এবং তিনি সঙ্গে সঙ্গে আমার হাত ধরলেন, যা আমার জন্য সত্যিই একটি চমৎকার মুহূর্ত ছিল।”
“তারপর আমি তাকে বললাম,‘স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি’- তিনি উত্তর দিলেন, ‘বেথ জাও’ এবং তারপরে আমরা একটি ছবি তুললাম। যাওয়ার আগে আমি আবার আমার হাত বাড়িয়ে দিলাম এবং তিনি আবার আমার হাত ধরলেন। এই মুহূর্তগুলো আমাকে সত্যিই অনেক খুশি করেছে। তিনি সত্যিই বিনম্র এবং বিশ্বজুড়ে তার সকল ভক্তের প্রতি খুব লয়াল! তাই আমার স্বপ্ন সত্যি হলো। অনুষ্ঠান ছাড়ার আগে আমাকে শাহরুখ স্যারের পক্ষ থেকে খাবারের সাথে দুটি উপহার দেওয়া হয়েছিল। উপহার দুটি ছিল ব্লুটুথ নেকব্যান্ড (হেডফোন) এবং বিশেষ শাহরুখ স্যারের একটি ছবি, যার সাথে তার স্বাক্ষর ছিল।”-বলছিলেন জারির।
শাহরুখের সাথে দেখা করে পরের দিনই বাংলাদেশে চলে আসেন এই তরুণ। জানান,“আমি ৩ নভেম্বর বাংলাদেশে ফিরে এসেছি, আমার স্বপ্ন পূরণ করার পরে। আমি এই মুহূর্তে সত্যিই একজন ভাগ্যবান মানুষ। আমি ওই অনুষ্ঠানে যে মুহূর্তগুলো কাটিয়েছি সেগুলো আমি কখনো ভুলবো না। আমি একটি এসআরকের সংলাপ উল্লেখ করতে চাই যা আমার জীবনে সত্যি হয়ে উঠেছে:‘কেহতে হ্যায় যদি কিসি চিজ কো দিলসে চাহো তো পুরি কয়েনাথ উসসে তুমসে মিলানে কি কোশিশ মে লাগ যায়।’ শেষ পর্যন্ত আমি বলতে চাই, আমি শাহরুখ খানকে ভালোবাসি।
নিজের পর্যবেক্ষণ জানিয়ে এই তরুণ বলেন,“এসআরকে আমার কাছে একজন আদর্শ ব্যক্তিত্ব। আসলে আমি তার কাছ থেকেই শিখেছি কীভাবে মানুষের সাথে বিনয়ী হতে হয়, কীভাবে নম্র হতে হয়, এবং বিশেষত কীভাবে পৃথিবীজুড়ে মেয়েদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হয়। তিনি তার প্রতি বার্তা দিয়ে আমার জীবন ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করেছেন।”







