বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচের লড়াই বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয় ম্যাচে হারার মধ্যে দিয়ে অনেক দলেরই গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। তবে দিন যতই যাচ্ছে ততই বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো নতুন নতুন রূপে উদ্ভাসিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত হওয়া ম্যাচগুলো নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকরা ফুটবলের মহাদেশীয় অগ্রগতি নিয়ে গবেষণা করছেন। ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়ার ফুটবল কেমন ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
বেশিরভাগ দল ইতিমধ্যেই গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলে ফেলেছে। ফলে তুলনামূলক আলোচনা করাও সহজ হচ্ছে। কাল সুইডেনের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের বড় জয়ের পর আজ সকালে “সামুরাই ব্লু” জাপান তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে। জাপান এখন পর্যন্ত দারুণ ছন্দে রয়েছে। দলটি বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের চোট সত্ত্বেও নিজেদের সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত আক্রমণ এবং উচ্চ-প্রেসিং ফুটবলের মাধ্যমে শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
সাবেক তারকা ফুটবলার সম্রাট হোসেন এমিলি জাপানকে এই বিশ্বকাপের অন্যতম বিপজ্জনক “ডার্ক হর্স” হিসেবে দেখছেন। বিশ্বকাপের প্রায় প্রতিটি ম্যাচ দেখার চেষ্টা করছেন তিনি। নারায়ণগঞ্জের নিজ বাসাতে থাকেন এমিলি। বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রথমেই বলেন, ‘খেলার ধরনে মনে হচ্ছে, দক্ষিণ আমেরিকার তুলনায় এবার বেশ এগিয়ে ইউরোপের দলগুলো। বিশেষ করে জার্মান, হল্যান্ড, ফ্রান্সের খেলায় ধার খুব বেশি। সেই তুলনায় দক্ষিণ আমেরিকার দল শ্লথ। এছাড়া ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা দু’একজন তারকা নির্ভর মনে হচ্ছে। আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে মনে হয়েছে মেসিই সর্বেসর্বা। মেসি না থাকলে কী হবে? মনে হচ্ছে মেসিবিহীন আর্জেন্টিনা ততোটা এগুতে পারবে না। দলে সেই তুখোড় মিডফিল্ডার ডি মারিয়াও নেই। ফলে একটা বড় শূন্যতা আছে। ব্রাজিলেও নেইমার দু’ম্যাচে খেলতে পারেনি। এখন দেখা যাক নেইমার আসার পর কী ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।’
এমিলি আরও বললেন, এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে ভালো দিক হল এশিয়ার টিমগুলোর দারুণ উন্নতি। খেলার ধরনেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। জাপানের খেলা তো খুবই ভালো লাগছে। এমিলি বললেন, সাউথ কোরিয়ার ভাগ্য খারাপ। নইলে মেক্সিকোর সাথে ম্যাচ ড্র হতো। কিন্তু সামান্য ভুলে কোরিয়া গোল খেয়ে বসে। শেষদিকে কোরিয়া যে আক্রমণ রচনা করে সেগুলোই ছিল খুবই দৃষ্টিনন্দন। গোলের চান্সও তৈরি হয়েছিল। খেলা ড্র হতে পারতো।
এমিলি বললেন, ‘এখনও বিশ্বকাপের মূল উত্তেজনা তৈরি হয়নি। দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই নানান উত্তেজনা, অঘটন দেখা যাবে। বিশ্বকাপের লড়াইটা উপভোগ্য হবে তখন থেকেই। দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বোঝা যাবে কোন কোন দলকে চ্যাম্পিয়নশিপের হাতছানি দিচ্ছে। ইউরোপ না দক্ষিণ আমেরিকা তারও ফয়সালা হবে।
সবশেষে তিনি বলেন, শৃঙ্খলা, আধুনিক কৌশল, ইউরোপীয় অভিজ্ঞতা, ফিটনেস এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সমন্বয়ই জাপানের বিশ্বকাপে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।







