যাত্রী সেজে গভীর রাতে অটোরিকশা ভাড়া করত জালাল সরদার ওরফে মাইকেল। সুবিধামতো নির্জন এলাকায় গিয়ে চালককে হত্যা করে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যেত। পরে সেসব রিকশা কম টাকায় বিক্রি করত জালাল।
গত দুই মাসে গেণ্ডারিয়া থানা এলাকায় দুই অটোরিকশা চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনার রহস্য উদঘাটনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- জালাল সরদার ওরফে মাইকেল (২১), ফজলে রাব্বি ওরফে কালা (২৫) ও মো. ইমরান (৩০)।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ছালেহ উদ্দিন।
গত ১৫ ও ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার পর গেণ্ডারিয়ার জুরাইন ও দ্বীননাথ সেন রোডে অটোরিকশা চালক ভাড়ায় উদ্দেশে যাত্রী নিয়ে খুন হন। রিকশা চালক দুজন হলেন জিন্নাহ ও আনোয়ার। তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় জখম করা হয়।
দুটি মামলার ঘটনা বিশ্লেষণের কথা উল্লেখ করে ওয়ারী বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) মো. ছালেহ উদ্দিন বলেন: দুটি ঘটনারই অপরাধের কৌশল একই। পুলিশ নিশ্চিত হয় একটি নির্দিষ্ট অপরাধী চক্র এই ধরণের অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তদন্তকালে ঘটনাস্থলসহ আশেপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনাসহ সকল ধরনের তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় দুজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, একই অপরাধী চক্র দুটি হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয় দুজনের মধ্যে একজনের নাম জালাল সরদার ওরফে মাইকেল। পরে সময়ে গত ২৪ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জালাল দুটি হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। সে জানায়, আঞ্জুমান কবরস্থানের পাশে অটোরিকশাচালক জিন্নাহ হত্যার ঘটনায় তার সঙ্গে ফজলে রাব্বি কালাও ছিলো কিন্তু দ্বীননাথ সেন রোডে কচিকাচা বিদ্যানিকেতন গলিতে অটোরিকশাচালক আনোয়ারকে হত্যাসহ রিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা সে একাই করেছে।
পুলিশের এই উপ কমিশনার আরও বলেন: ২৫ অক্টোবর আঞ্জুমান কবরস্থানের সামনে অটোরিকশা ছিনতাই ও রিকশাচালক আনোয়ার হত্যার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জালাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। গোয়েন্দা তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ৩ নভেম্বর দিবাগত রাত ৩টার দিকে গেণ্ডারিয়ার কবরস্থান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ফজলে রাব্বি ওরফে কালাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিন তাকে আদালতে পাঠালে সে জিন্নাহ হত্যার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয় এবং মাইকেলের জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য দেয়। হত্যায় ১০০ টাকা দিয়ে কেনা একটি ছুড়ি ব্যবহার করা হয়।
ওয়ারী বিভাগের ডিসি ছালেহ উদ্দিন বলেন, জালাল এই ছিনতাই করা অটোরিকশাটি গেণ্ডারিয়ার মো. ইমরান (৩০) নামে একজনের কাছে ১৩ হাজার টাকায় বিক্রি করে। ২৫ অক্টোবর রাত ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে গেণ্ডারিয়া থানা পুলিশ ডিআইটি প্লট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নিহত আনোয়ারের ছিনতাই করা অটোরিকশাটি মো. ইমরানের কাছ থেকে উদ্ধার করে এবং ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা কেনার অপরাধে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা এর আগেও এমন কোনো ঘটনা ঘটিয়েছিল কি-না জানতে চাইলে ওয়ারী বিভাগের ডিসি বলেন, তারা স্বীকার করেনি। তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।








