বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ দুই দশক পরে প্রথমবারের মত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ৩৯ টি কেন্দ্রের ১৭৮ টি বুথে একযোগে ভোটগ্রহণ চলছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত চলবে এ ভোটগ্রহণ।
ভোট শুরুর আগেই সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোর সামনে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ইতিহাসের প্রথম জকসু নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবমুখর ও উদ্দীপনাময় পরিবেশ বিরাজ করছে। সংকট কাটিয়ে নতুন দিনের সম্ভাবনায় উদ্দীপ্ত শিক্ষার্থীরা।
জকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একধরনের উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। ভোট দিতে এসে কেউ বিরক্ত হননি। শিক্ষার্থীরা একে অপরকে একসঙ্গে পেয়ে জড়িয়ে ধরে উল্লাস করেন। তাদের অনেককে গ্রুপ ছবিও তুলতে দেখা যায়। মেয়েদের কেউ কেউ শাড়ি পরে ভোট দিতে আসেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জকসু নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৪৪৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৮ হাজার ৪৭৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ১৭০ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদের বিপরীতে মোট ১৫৭ জন এবং হল সংসদের ১৩টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৩ জনসহ কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট প্রার্থী ১৮৭ জন। নির্বাচনে মোট ৩৯টি ভোটকেন্দ্র ও ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হবে।
জকসু নির্বাচনে মোট ৪টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’। হল সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তিনটি প্যানেল—‘অদম্য জবিয়ান’, ‘অপরাজিতার অগ্রযাত্রা’ ও ‘রোকেয়া পর্ষদ’।
নির্বাচন কমিশন জানায়, কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদের জন্য ১টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে ভোটগ্রহণ বুথ রাখা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ শেষে গণনার পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটার, শিক্ষক এবং নির্বাচন কাজে বিশেষভাবে অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। এজন্য পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক।
এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ক্যাম্পাসে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও মাঠে রয়েছেন। বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটার শিক্ষার্থীরা কেবল ১ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন এবং ভোট শেষে ২ ও ৩ নম্বর গেট দিয়ে বের হতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ২ নম্বর গেট ব্যবহার করতে হবে এবং আইডি কার্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিস জানিয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. কানিজ ফাতেমা কাকলি বলেন, আজকের মধ্যেই ভোটগ্রহণ ও ফল প্রকাশ সম্পন্ন করার প্রস্তুতি রয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার পর আজকের ভোটেই নির্ধারিত হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম জকসুর নেতৃত্ব।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন শুরুর ঠিক আগে সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর জরুরি সিন্ডিকেট সভায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরদিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে নতুন তারিখ দিয়ে পুনরায় আজকের দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে দুই দফা পিছিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয় বিগত বছরের ৩০ ডিসেম্বর৷







