জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের অভিযোগের তদন্ত নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চুপ থাকার কারণে হাইকোটে রিট করেছিলেন কমনওয়েলথ পদকপ্রাপ্ত শ্যুটার সাবরিনা সুলতানা। তার প্রেক্ষিতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। পরে অবশ্য কালকে সন্ধ্যায় বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে স্বাধীন তদন্ত কমিটি। তবে এই কমিটি প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করেছেন রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম।
নারী ক্রিকেটারদের জন্য একটি নিরাপদ, হয়রানিমুক্ত এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল ক্রীড়া পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ (বিসিবি) সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সোমবার রুল জারি করেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আহমদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে কথা বলেন নাসির উদ্দিন। বলেছেন, ‘জাহানারা ইস্যুতে বোর্ডের নির্লিপ্ততা নিয়ে কমনওয়েলথ পদকপ্রাপ্ত শ্যুটার সাবরিনা সুলতানা একটি রিট করেন। লিঙ্গ বৈষম্য নিয়ে কোর্টের জাজমেন্ট অনুযায়ী নারীদের অধিকার সংরক্ষণ করতে সব রেগুলেটরি বডিকে দেখভাল করার কথা বলা হয়। ২০০৮ সালের এই গাইডলাইন দিয়ে বিসিবি ব্যবস্থা নেবে বলে আমরা আশা করেছিলাম।’
রিটের পর তড়িঘড়ি করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে মনে করেন রিটকারীর আইনজীবী। বলেছেন, ‘গতকাল রিটের পর রাতের আধারে তড়িঘড়ি করে রিপোর্ট জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। হাইকোর্ট জানতে চেয়েছে, কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কেন নিশ্চুপ ছিলেন, রিপোর্টে কারা দোষী?’
দুই মাস আগে বিসিবিকে লিগ্যাল নোটিশ দিলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন নাসির উদ্দিন। বলেছেন, ‘আমরা লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছিলাম দুই মাস আগে। কিন্তু বিসিবি কোনো উত্তর দেয়নি। জাহানারা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ না করলেও, বিসিবির উচিত ছিলো এই সংবেদনশীল বিষয়ে নিজেরা ব্যবস্থা নেয়া। কিন্তু সেটা তারা করেনি।’
বিসিবির নারী উইংয়ের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন রুবাবা দৌলা। জাহানারা ইস্যুতে স্বাধীন তদন্ত কমিটিতে তার থাকাটা প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করেছেন ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন। বলেছেন, ‘২০০৮-এর রায়ে বলা ছিলো তদন্ত কমিটির প্রধান হবেন নারী সদস্য। কিন্তু এটাও ভাঙা হয়েছে। তাছাড়া রুবাবা দৌলাকে তদন্ত কমিটিতে রেখে তদন্তে প্রশ্ন তৈরি করেন। তার বিভাগের কর্মকর্তার ওপরে অভিযোগ থাকার পর, ওনি কমিটিতে থাকতে পারেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত কমিটির গঠন প্রক্রিয় ত্রুটিপূর্ণ। তদন্ত রিপোর্ট জনসম্মুখে প্রকাশ না করলেও, হাইকোর্টকে জানাতে হবে অবশ্যই। তারা কি ব্যবস্থা নিচ্ছে সেটাও জানাতে হবে।’








