প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকারের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
শুক্রবার এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, সুনীল কর্মকার ছিলেন বাংলাদেশের ভাববাদী সংগীতচর্চার একজন গুরুত্বপূর্ণ সাধক, যিনি দার্শনিক জালাল উদ্দিন খাঁর গান ও চিন্তাধারাকে ছড়িয়ে দিতে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন।
শোকবার্তায় সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের দর্শন ও শিল্পচর্চা শত শত বছর ধরে হাতে হাত রেখে এগিয়ে চলেছে। এই ভূখণ্ডের মানুষ তার জাগতিক আনন্দ-বেদনার পাশাপাশি দার্শনিক ভাবনা ও সমাজচিন্তার প্রকাশ ঘটিয়েছে গানের মধ্য দিয়ে। ফলে এ দেশের চিন্তার ঐতিহ্য কোনো দর্শনের গ্রন্থে নয়, খুঁজে পাওয়া যায় লালন, হাসন, জালাল খাঁ, শাহ করিমসহ অসংখ্য ভাবুকের গানে।
তিনি বলেন, সুনীল কর্মকার ছিলেন জালাল খাঁ ঘরানার একজন বিশিষ্ট সংগীত ও ভাবসাধক। বহু বছর আগে তাঁর সঙ্গে সান্নিধ্যের সুযোগ হয়েছিল উল্লেখ করে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, তখনই সুনীল কর্মকারের কণ্ঠে জালাল খাঁর গান তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। কণ্ঠশিল্পী হিসেবে যেমন তিনি অনন্য ছিলেন, তেমনি বেহালা, দোতারা সহ একাধিক বাদ্যযন্ত্রে তাঁর পারদর্শিতাও ছিল চোখে পড়ার মতো।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা আরও বলেন, গুণী এই শিল্পীর অসুস্থতার খবর পাওয়ার পরপরই সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাঁর পাশে দাঁড়ায় এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেয়।
শোকবার্তায় মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন,
“আজ ঘুম ভাঙার পরই পাওয়া এই শোকসংবাদ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বেদনার্ত করেছে। সামষ্টিকভাবে এটি আমাদের সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমি তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।”
‘কূল নাই দরিয়ার মাঝে বৃক্ষ একটি মনোহর’ খ্যাত প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকারের জন্ম ১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
সুনীল কর্মকারের মৃত্যুর খবরটি চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করেন জনপ্রিয় শিল্পী কুদ্দুস বয়াতি।
শিল্পীর সেই শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী শুক্রবার বিকেল ৪টায় ময়মনসিংহের গৌরীপুরের কলতাপাড়ায় তাকে সমাধিস্থ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার।
নেত্রকোনায় জন্ম নেওয়া সুনীল কর্মকার মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভরাট ও আবেগময় কণ্ঠে যেকোনো আসর একাই মাতিয়ে তুলতে পারতেন তিনি। কেবল কণ্ঠ নয়—বেহালা, দোতারা, তবলা ও হারমোনিয়ামসহ একাধিক বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারদর্শী ছিলেন এই বাউল শিল্পী।
বিখ্যাত বাউলশিল্পী ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর গান শুনেই গানের জগতে নিজেকে সঁপে দেন সুনীল কর্মকার। ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে তিনি সুর করেছেন এবং কণ্ঠ দিয়েছেন। এর মধ্যে বহু গান শ্রোতামহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পাশাপাশি নিজের লেখা প্রায় দুই শতাধিক গানও রয়েছে তার ঝুলিতে।
দৃষ্টিহীন এই শিল্পীর লোক সংগীতে অবদানের জন্য ২০২২ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রদত্ত শিল্পকলা পদক লাভ করেন।







