লেবাননে ইসরায়েলের হামলা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যেই কয়েক মাস ধরে চলা আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান এবং যুদ্ধ-সমাপ্তি নিয়ে নতুন দফার আলোচনায় অংশ নিতে ইরানি কর্মকর্তারা কাতারে পৌঁছেছেন। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার দাবি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
রোববার ৩১ মে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত সোমবার দক্ষিণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং মাইন পেতে চেষ্টারত নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য হুমকি থেকে নিজেদের সেনাদের সুরক্ষার অংশ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানি বাহিনীর সৃষ্ট হুমকি থেকে আমাদের সৈন্যদের রক্ষা করার জন্য মার্কিন বাহিনী দক্ষিণ ইরানে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু বা ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিবৃতিতে শুধু বলা হয়, লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ‘মাইন পাতার’ চেষ্টাকারী নৌযান অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এদিকে, সংঘাত নিরসনে আলোচনার জন্য ইরানের শীর্ষ আলোচকরা দোহায় পৌঁছেছেন। কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা প্রশমনে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মধ্যরাতের দিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের আশপাশে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এসব বিস্ফোরণের কারণ বা ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে চলমান আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হলেও নতুন সামরিক উত্তেজনা সেই প্রচেষ্টাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।








