অভিশংসনের ভয়ের প্রশ্নে ট্রাম্পের জবাব, এরপরই যা করলেন

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পরও কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে উদ্বিগ্ন নন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তাকে আবার অভিশংসনের মুখে পড়তে হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘একটুও না।’
বুধবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
ট্রাম্প বলেন, অভিশংসনের উদ্যোগ ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে ‘ধ্বংস’ করে দেবে। এটি হবে ‘কোনো কারণ ছাড়াই অভিশংসন’। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সফল।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ দুইবার ট্রাম্পকে অভিশংসিত করেছিল। তবে দুইবারই সিনেটে তিনি অভিযোগ থেকে রেহাই পান।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল স্পষ্ট হওয়ার পর হোয়াইট হাউজের নতুন বলরুম নির্মাণস্থলে দাঁড়িয়ে প্রথমবারের মতো সরাসরি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। তবে অভিশংসন বা মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে বেশিক্ষণ কথা বলেননি তিনি। বরং আলোচনার বড় অংশজুড়েই ছিল বলরুম নির্মাণ প্রকল্প।
নির্মাণাধীন ভবনের স্টিলের কাঠামো দেখিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘বিমগুলো ওপরে উঠতে দেখুন। এখন ঝাড়বাতির কথা কল্পনা করুন, মার্বেলের মেঝের কথা কল্পনা করুন।’
হোয়াইট হাউজের চেয়েও বড় হওয়ার পরিকল্পনা করা এই স্থাপনাটি ওয়াশিংটন ডিসির অন্যতম সেরা ভবন হবে বলে দাবি করেন তিনি। নির্মাণকাজকে প্রশান্তিদায়ক উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘হোয়াইট হাউজ আমেরিকার চূড়ান্ত প্রতীক। এটি নিখুঁত হতে হবে। একটি বলরুম থাকা প্রতিটি প্রেসিডেন্টেরই স্বপ্ন ছিল।’
দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরজুড়ে বলরুম নির্মাণের পাশাপাশি ওয়াশিংটন ডিসির সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পেও গুরুত্ব দিয়েছেন ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তার সর্বশেষ প্রচারবার্তায় লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুলের নতুন পাইপ ও আবরণ দেখানোর জন্য একাধিক ছবি ব্যবহার করেছিলেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ডিসিকে সুন্দর করে তুলেছি… আর সবাই এ নিয়ে কথা বলছে।’
এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন।
ভ্যান্সের বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তার বেশিরভাগ কথাই সত্য। যুদ্ধের কারণে স্বল্পমেয়াদে জ্বালানির দাম কিছুটা বেড়েছিল। তবে যুদ্ধের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি আবারও একই সিদ্ধান্ত নিতেন বলে জানান। ট্রাম্পের দাবি, ভোটারদের অসন্তোষের মূল কারণ যুদ্ধ নয়, বরং জ্বালানির দাম।
সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্যে ট্রাম্প তার প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসনের সময়ে কোনো অবৈধ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এরপর আবারও ফিরে যান বলরুম নির্মাণের প্রসঙ্গে।






