ইরানের কৌশলগত বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসের বিমানবন্দর সংলগ্ন একটি সামরিক স্থাপনায় মার্কিন বাহিনী অতর্কিত হামলা চালালে, এর পাল্টা জবাব হিসেবে একটি ‘মার্কিন বিমানঘাঁটি’ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার ২৮ মে সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম-এর মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি ঘোষণা করেছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ২৮ মে ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। ওই বিমানঘাঁটিকে মার্কিন ‘আগ্রাসনের উৎস’ হিসেবে চিহ্নিত করলেও, এর অবস্থান জানায়নি আইআরজিসি।
বন্দর আব্বাসের উপকণ্ঠে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলার খবরের পরই এই ঘোষণা এলো।
আইআরজিসি আরও বলেছে, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব অবশ্যই দেয়া হবে এবং এরপর যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে তার জবাব ‘আরও কঠোর’ হবে।
এদিকে কুয়েতের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে সতর্কতামূলক সাইরেন শোনা যাচ্ছে। কুয়েতের সামরিক বাহিনী বলেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবেলা করছে’।
এর আগে, ইরানে নতুন করে হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই হামলায় এমন একটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বাহিনী এবং বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের জন্য ‘হুমকি’ বলে মনে করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, একই ধরনের হুমকি সৃষ্টি করা একাধিক ইরানি ড্রোনও ভূপাতিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই মার্কিন হামলা এমন সময়ে চালানো হলো, যখন তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বৈশ্বিক জ্বালানির দাম তীব্রভাবে বেড়েছে।
নতুন এ হামলার খবর প্রকাশ পাওয়ার আগে, বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন উড়িয়ে দেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইরান ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালীর নৌচলাচল পরিচালনা করবে।
সবশেষ সোমবার ২৫ মে ইরানের বিরুদ্ধে তথাকথিত প্রতিরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ওই হামলাকে দুই দেশের নাজুক যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে আখ্যা দেয়।








