ইরানের সঙ্গে নতুন সমঝোতা চুক্তিকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তি নিয়ে আশাবাদ তৈরি হলেও এর বাস্তবায়ন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘিরে এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও ঝুঁকি রয়েই গেছে।
আজ (১৫ জুন) সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, চুক্তির বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এর কার্যকারিতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ঘোষণা করেন, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র তার নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। তিনি চুক্তিটিকে চমৎকার আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, এটি পুরো অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানোই চুক্তির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে পর্যাপ্ত নজরদারি ও যাচাই-বাছাইয়ের সক্ষমতা রাখে। তবে, অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যেকোনো সমঝোতা বাস্তবায়ন অত্যন্ত জটিল।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারকে অন্তর্ভুক্ত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত আলোচনা স্থগিত থাকবে। ফলে উভয় পক্ষের প্রতিশ্রুতির ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়নই চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জ্বালানি বাজারেও চুক্তির প্রভাব নিয়ে সতর্ক অবস্থান দেখা যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে গেলেও যুদ্ধ-পূর্ব তেল সরবরাহ পরিস্থিতিতে ফিরতে সময় লাগবে। জমে থাকা ট্যাংকার সরানো, নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর করা এবং উৎপাদন-রপ্তানি স্বাভাবিক করতে কয়েক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হতে পারে।
অন্যদিকে ট্রাম্প নিজেই অভিযোগ করেছেন, লেবাননে সামরিক হামলার নির্দেশ দিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা চুক্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত সমঝোতা ঘোষণা করা সম্ভব হয়েছে, তবে নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সামরিক সংঘাত শুরু হলে ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন সংকট তৈরি করবে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও চুক্তিটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জনঅসন্তোষ বেড়েছে।
তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি জনগণের অসন্তোষ এখনও উল্লেখযোগ্য। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমাতে সহায়ক হলেও ট্রাম্পের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি দূর করবে না।
সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি সফলতা নির্ভর করবে পারমাণবিক ইস্যু, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং উভয় পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলের নজর সেদিকেই।







