হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় ১৭ জন ভারতীয় নাবিকসহ একটি ইসরায়েলি জাহাজ জব্দ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, জব্দ করা পর্তুগিজ পতাকাবাহী ‘এমএসসি এরিজ’ নামের পণ্যবাহী জাহাজটি ইসরায়েলের ব্যবসায়ী ইয়েল ওফারের। জব্দ করার সময় জাহাজটিতে ২৫ জন ক্রু ছিল।
জাহাজের মালিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূল থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে ইরানের বিশেষ বাহিনী জাহাজটি জব্দ করে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন এজেন্সি এক বিবৃতিতে ইরানের সম্পৃক্ততার কথা না জানালেও জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূলে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের দ্বারা জব্দ করার কথা বলেছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) এর নৌবাহিনী এমএসসি এরিজকে জব্দ করেছে কারণ এটি ইসরায়েলের সাথে যুক্ত। হরমুজ প্রণালী থেকে জব্দ করার পর জাহাজটি এখন ইরানের সমুদ্রসীমায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, আইআরজিসির কমান্ডোরা হেলিকপ্টারযোগে হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি জাহাজে অভিযান চালাচ্ছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার থেকে সৈন্যরা জাহাজের ওপরে নামছে।
হামলার পর ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাটজ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অবিলম্বে ইরানের বিপ্লবী গার্ডস কর্পসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার এবং ইরানকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার দামেস্কে ইরানের দূতাবাসে হামলা চালায় ইসরায়েল। ওই হামলায় আইআরজিসি’র দুই জ্যেষ্ঠ কমান্ডারসহ ৮ কর্মকর্তা নিহত হন। হামলার ঘটনায় প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন ইরানি কর্মকর্তারা। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত বুধবার বলেছেন, ইরানি দূতাবাসে হামলার জন্য ইসরায়েলকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশংকা বেড়েই চলেছে। তারই অংশ হিসেবে ইসরায়েলে যে কোনো মুহূর্তে সরাসরি হামলা চালাতে পারে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এমন সতর্কতার একদিন পরই ইসরায়েলি জাহাজ জব্দ করল ইরানি কমান্ডোরা।








